ক্রিকেট > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

ধর্ম বৈষম্যে আফ্রিদির কাছে অবহেলিত ছিলেন দানিশ?

"আমি পিসিবির কাছে কোনো চাকরিও চাই না। কেবল চাই পিসিবি আমার শাস্তিটা তুলে দিক, আমি একটু শান্তিতে জীবন যাপন করি।"

ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ এপ্রিল ২০২২, দুপুর ২:৫০ সময়

[ jpg.webp ]
সংগৃহীত

পাকিস্তান দলে অন্য ধর্মের ক্রিকেটাররা সবসময় বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন বলে অনেক রকমের মন্তব্য আছে। অনেক সময় এগুলোকে সত্য বলে কথা বলেছেন পাকিস্তানেরই অনেক সাবেক ক্রিকেটার। বলা হচ্ছে দানিশ কানেরিয়ার কথা, তিনি অভিযোগ করেছিলেন ধর্মের কারণে তিনি পাকিস্তান দলে বিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন। এবং সেই তিনি বৈষম্য পেয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদির অধিনায়কত্বের সময়। আবার সেই প্রসঙ্গ তুলে দানেশ কানেরিয়া আফ্রিদিকে চরিত্রহীন এবং মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। 

আফ্রিদি নিজেকে বাঁচাতেই কানেরিয়াকে সবসময় উপেক্ষা করতেন বলে জানান। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দানেশ কানেরিয়াকে তিনি সবসময় দলের বাইরে রাখতে চাইতেন বলেও জানান। কানেরিয়ার মতে, "সে কখনোই চাইতো না আমি দলে থাকি। সে একটা আস্ত মিথ্যাবাদী আর ষড়যন্ত্রকারী। চরিত্রেও সমস্যা আছে ওর। সে সব সময়ই আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরতো। আমরা দুজনই লেগ স্পিনার ছিলাম। সে কারণে আফ্রিদি আমাকে বসিয়ে দিত। আফ্রিদি অন্য খেলোয়াড়দের আমার বিরুদ্ধে উসকে দিত। আমার যেহেতু ভালো পারফরম্যান্স ছিল, তাই সে আমাকে হিংসা করতো। আমি পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পেরে গর্বিত। আমি অনেক কৃতজ্ঞ।"

এই মন্তব্যকে সায় দিয়ে পাকিস্তানের আরেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আকতার বলেন, "অন্তত একজন আমার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করেছে। আমার হয়ে বলার জন্য শোয়েব আখতারকে ধন্যবাদ। কিন্তু আমি জানি, শোয়েব ওই কথা বলার পর বিভিন্ন মহলের হুমকি আর চাপ সয়েছে। এরপর সে এ ব্যাপারে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ধর্মের কারণে বৈষম্যের শিকার তো আমি হয়েছিই।"

কানেরিয়ার বিপক্ষে ফিক্সিং ঘটনা সম্পুর্ণ চাপানো এবং ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি আগেও বলেছি, আমি নির্দোষ। তবে আমার সঙ্গে আরও একজনের নাম এসেছিল, কিন্তু পরে কেবল আমিই দোষী সাব্যস্ত হই। সেই ব্যক্তি আফ্রিদি ও পাকিস্তানের অন্যান্য ক্রিকেটারের বন্ধু। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া অনেকেরই শাস্তি উঠে গেছে। অনেকেই ক্রিকেটেও ফিরেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলা হয়ে গেছে নির্বাসন থেকে ফিরে। আমি তো এখন আর ক্রিকেটে ফিরতে পারব না, সে বয়সও নেই। আমি পিসিবির কাছে কোনো চাকরিও চাই না। কেবল চাই পিসিবি আমার শাস্তিটা তুলে দিক, আমি একটু শান্তিতে জীবন যাপন করি।"