ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টিতে সাকিব বাংলাদেশের চতুর্থ সেরা অধিনায়ক

পরিসংখ্যান যদিও একজন ক্রিকেটারকে বিচার করতে যথেষ্ঠ নয়, তবে টি টোয়েন্টিতে সাকিবের অধিনায়কত্ব বাংলাদেশকে খু্ব বেশি কিছু দিতে পারেনি সে কথা প্রমাণ করবে পরিসংখ্যানই।

ওয়াহেদ মুরাদ

২০ জুলাই ২০২২, দুপুর ৩:২৫ সময়

[ shakib-al-hasan.webp ]
ছবি: ডেইলি স্টার

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ বরাবরই খুবই বাজে পারফর্ম করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সরিয়ে সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক করা হতে পারে গুঞ্জন চাওড় বাতাসে। তবে অধিনায়কত্ব পরিবর্তন করেই ফলাফল খুব একটা পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন না খোদ বিসিবি সভাপতিও৷ বিসিবি বসের সেই কথাতে অবশ্য সায় দিচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যানও৷

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ১২৮ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে মোট ৭ জন অধিনায়কের অধীনে। যেখানে বাংলাদেশ জিততে পেরেছে মোট ৪৪ টি ম্যাচ, হেরেছে ৮১ টি ম্যাচেই। সবথেকে বেশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬ ম্যাচ খেলে ১১ টি জয় বাংলাদেশের, সমান ম্যাচ খেলে ৫ টি জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ৪ টি জয় আছে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে। অধিনায়ক সূচকে সেক্ষেত্রে সবথেকে বেশি সফল বর্তমান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নতুন অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনাই এগিয়ে থাকা সাকিব আল হাসান আছে চার নম্বরে। দেখে নেওয়া যাক, র্যাঙ্কিং হিসেবে বাংলাদেশের সেরা টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক... 

১. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ : ২০১৮ সাল থেকে মোট ৪৩ টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি, যেখানে জিতেছেন ১৬ ম্যাচে। জিতেছেন ৩৮.০৯ শতাংশ যেটি অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ব্বোচ্চ। সিরিজ জিতেছেন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মত পরাশক্তির বিপক্ষে তবে বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সে হতাশ করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিপিএলে তূলনামূলক কম শক্তির দল খুলনার অধিনায়কত্ব দিয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। 

২. মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা : মাশরাফিকে ধরা হয় বাংলাদেশের ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরা অধিনায়ক। পরিসংখ্যানও বলবে সেই কথায়। টি-টোয়েন্টিতে ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মোট ২৮ টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মাশরাফি জিতেছেন ১০ টি ম্যাচে, জেতার হার ৩৭.০৩ শতাংশ। ২০১৫ তে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে মিরপুরে পাকিস্তানকে হারানো, ২০১৬ এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ফাইনালে উঠেছিলেন মাশরাফির অধিনায়কত্বে। শ্রীলংকার মাটিতে নিজের বিদায় ম্যাচে জিতেছিলেন, সিরিজ ড্র করেছিল বাংলাদেশ।

৩. মুশফিকুর রহিম : মুশফিক বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৩ ম্যাচে যেখানে জিতেছেন ৮ ম্যাচে, জেতার হার ৩৬.৩৬ শতাংশ। ৮ ম্যাচের মধ্যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ বটে। বাকি জয়গুলো তূলনামূলক কম শক্তির আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। যদিও টিটোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের থেকে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থেকেছে এই দুই দলও। 

ছবি: ডেইলি স্টার

৪. সাকিব আল হাসান : সাকিবকে বলা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবথেকে বড় ক্রিকেট মস্তিষ্ক। তবে সাকিবের হাত ধরে খুব বড় সাফল্য কখনো পাইনি বাংলাদেশ। মাশরাফি যেভাবে হুট করে বদল এনেছিলেন, সেই বদলটা সাকিবের কাছ না পাবার আক্ষেপ আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের। এই যেমন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব পরিসংখ্যানেই চার নম্বরে নেমে গেলেন সাকিব আল হাসান। মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ ম্যাচ জিতেছেন, ২১ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা সাকিব জিতেছেন ৭ ম্যাচে। 

২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওদের মাঠে সিরিজ জয় সাকিবের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে সবথেকে বড় সাফল্য। তবে একই বছর ঘরের মাঠেই সিরিজ হেরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ১ টি মাত্র জিতেছেন। ভারতের মাটিতে আফগানিস্তান  সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হবার তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে সাকিবের। মোহাম্মদ আশরাফুল জিতেছেন ১৮ শতাংশ ম্যাচ। ২০০৭ বিশ্বকাপে সাফল্য আশরাফুলকে মনে করাবে বারবারই। এছাড়া ১১ ম্যাচে মাত্র ২ জয় পাওয়া আশরাফুলকে ব্যর্থই বলা যায়। বাকি দুইজন শাহরিয়ার নাফিজ এবং লিটন দাস ১ ম্যাচ করে অধিনায়কত্ব করেছেন।

সাকিবের অধিনায়কত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, বরং সাকিবের মত ক্রিকেট ভাবনা বা জ্ঞান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব কম ক্রিকেটারের আছে বলেই মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তবুও কেন যেন সাকিবের অধিনায়কত্বের সেরা সময়টা এখন অব্দি পাইনি বাংলাদেশ। ২০১১ বিশ্বকাপের পর ভারতের একটি গণমাধ্যমে লেখা হয়েছিল, " সাকিব মাঠের অধিনায়ক হিসেবে যতটা সফল, মাঠের বাইরে ততটা ব্যর্থ "। তবে তরুন সেই সাকিব এখন পরিণত হয়েছেন। 

সুতরাং নিজের কোন দিকগুলো পরিবর্তন করলে তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাজে লাগবে তা হয়ত ঠিকই উপলব্ধি করবেন সাকিব আল হাসান। গুঞ্জন সত্যি হলে সাকিবই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তৃতীয় মেয়াদে সাকিবের কাছে প্রত্যাশা থাকবে অনেক বেশি। সাকিব কি পারবেন প্রত্যাশা মিটিংয়ে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টিতে সঠিক পথ দেখাতে! নাকি আগের দুইবারের মতই প্রত্যাশার উঁচু পারদটাকে হতাশার কালো অন্ধকারে রেখে যাবেন! উত্তরটা সময়ের কাছেই তোলা থাক।