ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ‘সেভেন আপ’ খাওয়ানো ম্যাচে যত রেকর্ড গড়ে জার্মানি

পরিসংখ্যানের পাতায় জেনে নিন ঐতিহাসিক ‘সেভেন-আপ’ ম্যাচের যত রেকর্ড।

ডেস্ক রিপোর্ট

৮ জুলাই ২০২২, রাত ১০:১১ সময়

[ brazil-world-germany-brazil-final-2014-fifa_10303cdc-6949-11e8-af35-5e950c6035ab.jpg ]
সংগৃহীত

হেক্সা জয়ের বড় স্বপ্ন নিয়ে এসে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। এরপর থেকেই বাংলাদেশের ব্রাজিলবিরোধীরা বিশেষ করে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা সেই ম্যাচটিকে 'সেভেন আপ' ম্যাচ নাম দেন। সেই দিনের হারার যন্ত্রণাময় মুহূর্ত নিশ্চয়ই এখনও বেশ মনে লেগে আছে বহু সেলেসাও সমর্থকের হৃদয়ে।

২০১৪ সালে আজকের দিনেই নিজেদের মাঠ বেলো হরিজোন্তে এমন লজ্জা পেয়েছিল ব্রাজিল। জার্মানদের কাছে নিজেদের চেনা আঙ্গিনায় গুনেগুনে ৭ গোল হজম করেছিল পেলের দেশ।

আগের ম্যাচে কলম্বিয়ার হুয়ান কার্লোস জুনিগার কড়া ট্যাকলে পরে নেইমারের হয়ে যায় বিশ্বকাপ শেষ। কার্ড জনিত ঝামেলায় পড়ে কাপ্তান থিয়াগো সিলভাকেও হারায় স্বাগতিকরা। রক্ষণ ও আক্রমণ মিলিয়ে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই তারকা ছাড়া জার্মানির বিপক্ষে দাঁড়াতেও পারেনি লুইস স্কোলারির দল।

ছন্নছাড়া ব্রাজিলকে পেয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্যে মিমাংসা করে নেয় ‘ফুটবলের সুপার হাউজ’ জার্মানি। ৩০তম মিনিটের মধ্যেই তারা ব্রাজিলের জালে বল ঢোকায় পাঁচবার!

ক্রুস-মুলার-খেদিরা কিংবা ক্লোসারা যেমন অনায়াসে গোল করে বেরিয়ে আসছিলেন, ব্রাজিলের রক্ষণ বলে কিছুরই অস্তিত্ব নিয়েই তখন প্রশ্ন। 

দ্বিতীয়ার্ধে শুরলা যোগ দেন জার্মানির নির্মম উল্লাসে। যোগ করা সময়ে ব্রাজিলের হয়ে অস্কারের গোলটা তখন ঘুটঘুটে অন্ধকারে কুপিবাতির আলো। অন্ধকার কমানোর বদলে যেটি আরও বেশি করে অন্ধকারকে চোখে লাগায়! তিলেতিলে ব্রাজিলের বানানো ফুটবল সাম্রাজ্য তখন ভেঙে চুরমার। সেলেসাওদের বিদ্রুপ করতে প্রতিদ্বন্দ্বীরাও পেয়ে যায় ‘সেভেন আপ’ নামক মোক্ষম হাতিয়ার।

চলুন এক নজরে দেখে নিন ব্রাজিলকে লজ্জা দেওয়া ঐতিহাসিক সেভেন-আপ ম্যাচে যেসব রেকর্ড হয়েছিল:

• বিশ্বকাপের ইতিহাসে শেষ চারে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়ে জার্মানি। আগের রেকর্ডটি ছিল উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারায়; যুগোস্লাভিয়াকে ৬-১ গোলে হারায় উরুগুয়ে। এর আগেও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ৬-১ গোলের জয়ের রেকর্ড ছিল জার্মানির। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলে জিতেছিল ডাই ম্যানশেফটরা। 

• এটি বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের দলদের সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে হারের রেকর্ড।

• ১৯৭৫ সালের পর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রথমবার হারের স্বাদ পায় ব্রাজিল। 

• ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সবচেয়ে বড় হারের রেকর্ড গড়েছে ব্রাজিল। সবধরনে প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ডও এটি। এর আগে  ১৯২০ সালে কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিলো সেলেসাওরা। 

• ১৯৩৮ সালে পর এক বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনে সবচেয়ে বেশি ১১ গোল হজম করেছে ব্রাজিল।

• বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল দ্বিতীয়বার এক ম্যাচে ৭ গোলের বেশি হজম করেছে। এর আগে ১৯৪৪ সালে বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৮-৪ গোলে হেরেছিলো দলটি। 

• ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে ব্রাজিলেরই সাবেক ফুটবলা রোনালদো লিমাকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক ১৭ গোলের রেকর্ড গড়ে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোস। বিশ্বকাপে রোনালদো ফেনোমেনন গোল করেছিলেন ১৬টি।

• ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল মিলিয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ডও গড়ে ক্লোসা।

• ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ জেতা ব্রাজিলের কাফুকে স্পর্শ করেন ক্লোসা।

• ব্রাজিলের বিপক্ষে থমাস মুলারের গোলটি ছিলো আন্তর্জাতিক ফুটবলে জার্মানির ২০০০তম গোল। ডাই ম্যানশেফটদের হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন ফ্রিটজ বেকার।