ফুটবল > ক্লাব ফুটবল

রিয়ালে খেলা ব্রাজিলের তিন খেলোয়াড়ের ‘মুক্তিপণ’ ২০ হাজার কোটি টাকা!

ব্রাজিলের তিন তারকাকে দীর্ঘসময় ধরে রাখার বন্দোবস্ত করে রেখেছে লস ব্লাংকোসরা।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ জুলাই ২০২২, রাত ১১:২২ সময়

[ 20220724_232054.jpg ]

ফুটবলের দেশ ব্রাজিল, ফুটবলের তীর্থভূমিও বলা হয় দেশটিকেই। লাতিনের এই দেশটির ফুটবলার সারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে আছে। এমনকি, বর্তমান ফুটবল দুনিয়ায় তড়ি ঘুরানো ইউরোপেও সবচেয়ে বেশি ফুটবলার আমদানি করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বরাবরই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলির পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। সেই তালিকায় বাদ নেই ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদও। লস ব্লাংকোসদের ইতিহাসে অনেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারই স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছে। স্প্যানিশ ক্লাবটিরব র্তমান স্কোয়াডও যেন ‘এক টুকরো ব্রাজিলের’ দেখা গেছে। 

গত মৌসুমেই চমক জাগিয়ে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হয় রিয়াল মাদ্রিদ। লস ব্লাংকোসদের ইউরোপ জয় বেশ ভালো ভূমিকা রেখেছেন ব্রাজিলের পাঁচজন ফুটবলার- ভিনিসিয়াস, রদ্রিগো, ক্যাসিমেরো, মার্সেলো ও এডার মিলিতা। 

এদের মধ্যে রিয়ালের হয়ে সর্বাধিক শিরোপা জেতা মার্সেলোর বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। সদা রিয়ালের রক্ষণদুর্গ পাহারা দেওয়া মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর বয়সও বাড়ছে। কিন্তু এখনই ভিনিসিয়াস, রদ্রিগো ও মিলিতাওকে নিজেদের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হিসেবেই দেখছে লস ব্লাংকোসরা। 

তাই, ব্রাজিলের এই ত্রিরত্নকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখার সব বন্দোবস্তই করে রেখেছে রিয়াল। আরবের টাকার ঝনঝনানি ও পেট্রো ডলারে এ তিনজনকে হারানোর ভয়ে অবিশ্বাস্য মুক্তিপণের ট্যাগও লাগিয়ে দিয়েছে ক্লাবটি। 

কোন ক্লাব যদি তরুণ এখন এই তিন ফুটবলারকে এক সাথেই কিনতে চায়, তাহলে তাদের খরচ করতে হবে আড়াই বিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি!

২০১৯ সালে মার্চে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তো ছেড়ে ছয় বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ডিফেন্ডার এডার মিলিতাও। শুরুতেই লস ব্লাংকোসদের ব্যাক-আপ খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও ব্রাজিলিয়ান তারকা এখন দলটির নিয়মিত সদস্য। গত মৌসুমে রিয়ালের লা লিগা ও ইউরোপ জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই, ২৪ বছর বয়সী এই সেন্টারব্যাকের পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিয়াল চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে। নতুন চুক্তিতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্না ব্যুতে থাকবেন মিলিতাও। এই সময় তাঁর রিলিজ ক্লজ রাখা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো।

এডার মিলিটাওয়ের আগেই ২০১৭ সালে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে চুক্তি করেছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। তবে, ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় বার্না ব্যুতে আসতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক। ২০১৮ সালে নেইমারের পর ব্রাজিলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্রান্সফারের বিনিময়ে স্পেনে আসেন তারুণ্যেই তারকা বনে যাওয়া এই উইঙ্গার।

রিয়ালের হয়ে শুরুতেই নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি ভিনিসিয়াস। তবে, এখন ধীরেধীরে ঠিকই নিজের জাত চেনাচ্ছেন। ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমার সঙ্গে গড়ে তুলেছেন ভয়ঙ্কর এক জুটি।

রিয়ালের লা লিগা ও উয়েইফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে ভিনিসিয়াসের ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান। লিভারপুলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তার গোলেই জেতে কার্লো আনচেলত্তির দল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫২ ম্যাচে ২২ গোল করেন তিনি।

ভিনিসিয়াসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৪ সাল পর্যন্ত। আক্রমণভাগে অন্যতম সেরা ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নিয়েছে দলটি। নতুন চুক্তিতে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত খেলবেন। এ সময়ে পিএসজি কিংবা ম্যানচেস্টা সিটির মতো কোন ক্লাব যদি ব্রাজিলিয়াব বিস্ময়বালককে কেনার চিন্তা করে তাহলে মুক্তিপণ হিসেবে ১ বিলিয়ন ইউরোর খরচ করতে হবে। 

ভিনিসিয়াস আসার পরের বছরই রিয়াল যোগ দেন ব্রাজিলের আরেক তরুণ তারকা রদ্রিগো। ২১ বছর বয়সী এই তারকা এখনও লস ব্লাংকোসদের দলে নিয়মিত হতে পারেননি বটে, তবে কার্লো আনচেলত্তির দলে যখনই সুযোগ পেয়েছেন নিজের দক্ষতা দেখেছেন। তাই, রিয়াল মাদ্রিদও ব্রাজিলিয়ান তারকাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। 

তারই অংশ হিসেবে রদ্রিগোর সঙ্গেও চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে লস ব্লাংকোসরা। ভিনিসিয়াসের মতোই ২০২৭ সাল পর্যন্ত বার্নাব্যুর ক্লাবটির হয়ে খেলবেন তিনি। আর তাঁর এই সময়ে মুক্তিপণও রাখা হয়েছে ভিনিসয়াসের মতোই ১ বিলিয়ন ইউরো!