ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজের উন্নত মানসিকতার পরিচয় দিলেন নতুন অধিনায়ক সোহান

জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ জুলাই ২০২২, দুপুর ৩:৩৬ সময়

[ IMG-20220724-WA0001.jpg ]

বাংলাদেশ দলের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। জিম্বাবুয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবার আগে নয়া কাপ্তান কথা বলেছেন, প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। গনমাধ্যমের সামনে সাবলীলভাবে উত্তর দিয়েছেন যা সোহানকে আত্মবিশ্বাসী প্রমাণ করেছে। প্রায় মিনিট বিশেকের সংবাদ সম্মেলনে সোহান হতাশ করেননি একবার। বাংলাদেশের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের প্রথম প্রেস মিটের গুরত্বপূর্ণ অংশটুকু পাঠকদের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হলো। 

অধিনায়ক হিসেবে কেমন বোধ করছেন সোহান? 

এটা (অধিনায়ক) তো অবশ্যই গর্বের ব্যাপার। সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে সেটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। খুব বেশি এক্সাইটমেন্ট দেখানোর সুযোগ নেই। আমার কাছে মনে হয়, দল হিসেবে এবং নিজেদের সেরা দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য।

দল হিসেবে খেলার লক্ষ্য সোহানের? 

আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে যখনই অধিনায়কত্ব করেছি, আমার সব সময় চাওয়া থাকে আমরা যেন দল হিসেবে খেলতে পারি। অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে জিম্বাবুয়েতে যেন টিম হিসেবে খেলতে পারি। মূল যে বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ…দলের পরিবেশ যেন…সবাই তো প্রতিদিন পারফর্ম করবে না। আমরা যারা টিম মেম্বার থাকবো ১৪-১৫ জন তারা যেন একজনের সাফল্য আরেকজন ইনজয় করি। এই কালচার এবং দল হিসেবে খেলাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। 

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে উন্নতি নিয়ে কি করা উচিত? 

আমরা টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে ওয়ানডে থেকে পিছিয়ে আছি। আমার কাছে মনে হয় উন্নতি করারটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি। এজন্য প্রক্রিয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। রেজাল্ট বা আউটকামের থেকে। সেটাই চেষ্টা করবো। এই সিরিজে দলগতভাবে খেলা আমার কাছে বড় কাজ বলে মনে হচ্ছে। 

ব্যাক্তিগত জীবনে অধিনায়কত্বের প্রভাব? 

আমি যদি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলি, এই যে ক্রিকেট বা অন্য কিছু…আমার কাছে প্রত্যাশা খুব কম। বা এক্সাইটমেন্ট এগুলো আমার কাছে কম। আমার আছে মনে হয় আমি নিজে আমার হার্ডওয়ার্ক করবো, প্রক্রিয়া অনুসরণ করবো, নিজে সৎ থাকবো। ফলাফল, ভবিষ্যৎ, অতীত এগুলো নিয়ে অামি খুব একটা চিন্তা করি না। যেটা বললেন, চাপ..সেগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। অনেক দিন ধরেই এটা করার চেষ্টা করছি। এগুলো আমার কাছে খুব একটা মেটার করবে না। 

পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে চান অধিনায়ক সোহান..

এটা দেখেন, প্রক্রিয়ার ভেতরে থাকতে হবে। আমরা জিম্বাবুয়ে যাওয়ার পর হয়তো আলোচনা হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফেরার পর তেমন আলোচনায় বসা হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে’ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ওই জায়গায় উন্নতি করার চেষ্টা করছি। আশা করছি আমরা ভালো করতে পারবো। 

আফিফের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কি চিন্তা সোহানের? 

এটা টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে আপনি ব্যাটিং অর্ডার সেট করে কিছু করতে পারবেন না। অনেক সময় পরিস্থিতি একেক রকম থাকে। পরিস্থিতির ওপর ডিমান্ড করে। 

সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গে সোহান?

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আমাদের সিনিয়র যারা আছেন তাদের যে অবদান তাদের কথা একটা দুইটা কথায় শেষ করতে পারবো না। একটা জিনিস, এখন সব কিছু প্রক্রিয়ার ভেতরে আছে। আমাদের জন্য এটা একটা সুযোগ সামনে এগিয়ে নেওয়ার। তারা বাংলাদেশ দলকে একটা জায়গায় নিয়ে এসেছে। আমরা যারা জুনিয়র আছি বা খেলছি তাদের দায়িত্ব পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া। এটা সবার জন্য সুযোগ। মূল বিষয় হচ্ছে আমাদের দলগতভাবে ভালো খেলতে হবে। সেটা করতে পারলে ভালো হবে। 

দলের জন্য খেলতে হবে: টিটোয়েন্টিতে আমরা যারা মিডল বা লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করি এখানে আমাদের রানের সংখ্যার থেকে স্ট্রাইক রেট বা ইমপ্যাকটটা গুরুত্বপূর্ন। জিনিসটা এমন হতে পারে ১৫-২০ রান ছোট মনে হতে পারে কিন্তদু ওই রান খেলার ওপর কতটা ইমপ্যাক্ট পড়তে পারে ওটায় চিন্তা থাকবে। যখন আমি খেলোয়াড় হিসেবে খেলি আমার লক্ষ্য থাকে দল আমার কাছে কি চাইছে সেটা পূরণ করার। যেহেতু এই সিরিজে অধিনায়কত্ব করছি আমার লক্ষ্য থাকবে টিম হিসেবে কেমন খেলতে পারি ওইটা মেক শিউর করা।

ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে চান সোহান: আমার কাছে মূল যে বিষয়টা…ফিয়ারলেস ক্রিকেট খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই চেষ্টা করবো এটা যেন করতে পারি। আগে থেকে ফল নিয়ে চিন্তা করলে প্রক্রিয়া ঠিক থাকে না। এজন্য প্রক্রিয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ফল নিয়ে চিন্তা করছি না। ফিয়ারলেস থাকলে ইতিবাচক জিনিসি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। 

আমাদের কথা তো অনেক কিছু হয়। এটার ইমপ্যাক্ট যেন খেলোয়াড়দের ওপর না আসে। আপনি যখন ফিয়ারলেস থাকবেন তখন অনেক কিছু চিন্তা করার সুযোগ পাবেন। যখন মনের ভেতরে ভয় কাজ করবে তখন ওই জিনিসগুলোর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফেয়ারলেস ক্রিকেটের পাশাপাশি দলগতভাবে যেন ভালো খেলতে পারি এটা নিশ্চিত করতে হবে।

দল নিয়ে খুশি নুরুল হাসান সোহান : ইন্ডিজ থেকে আসার পর নির্বাচকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অামাকে যখন জানানো হলো তখনও কথা হয়েছে। এখানে অপশন খুব বেশি একটা ছিল তেমনও না। যারা খেলছে শেষ কয়েক বছর ধরে তারাই আছে। আমি বলবো না যে, ডিসকাস করার অনেক সময়ও ছিল। যে টিমটা পেয়েছি সেটাতে অামি হ্যাপি। 

ড্রেসিংরুমের উন্নতি : শেষ কয়েক বছরে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুম অনেকটাই উন্নতি করেছে। আমার কাছে মনে হয় এই জিনিসটা আমরা যেন আরো ভালোমত করতে পারি, সিনিয়র ক্রিকেটারদের বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি যে অবদান এটা একটা দুইটা কথায় বলা যাবে না। পরবর্তী দাপে নিয়ে যাওয়ার আগে আমরা আরো ভালোভাবে কিভাবে কি করতে পারি, যে জিনিসগুলো ল্যাকিংস আছে সেগুলো কিভাবে মেকওভার করতে পারি সেটা গুরুত্বপূর্ণ।