ক্রিকেট > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

‘চার-ছক্কার খুনে ইনিংসে’ ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে সিরিজ জেতালেন অক্ষর

অক্ষরের বীরত্বে ম্লান হোপের কীর্তি, সিরিজ জিতলো ভারত।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ জুলাই ২০২২, সকাল ৯:৩৭ সময়

[ 20220725_093038.jpg ]

দুদলের প্রথম ওয়ানডেতেও লড়াই হয়েছে বেশ। শেষ ওভার পর্যন্ত জয়ের সম্ভাবনা ছিলো দুদলেরই। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে পেরে উঠেনি উইন্ডিজ৷ মাত্র তিন রানের হারের কষ্ঠ নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। 

ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকতে হলে এবার জয়ের কোন বিকল্প ছিলো না ক্যারিবীয়দের। নিজের শততম ওয়ানডে ম্যাচটি শতকে রাঙ্গিয়ে স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছিলেন ওপেনার শাই হোপ। আগের ম্যাচের মতো এবারও উইন্ডিজের জয়ের ভালোও সম্ভাবনা ছিলো। 

তবে দিনটি ছিলো বুঝি অক্ষর প্যাটেলের ছিলো। ২৮ বছর বয়সী এই বোলিং অলরাউন্ডারের এক খুনে ইনিংসে আবারও তীরে এসে তরী ডুবল ক্যারিবিয়ানদের।  

ভারতকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনে মাত্র ৩৫ বলে ৬৪ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে সিরিজ জেতা লেন অক্ষর। তারুণ্যে ঠাসা দল নিয়েই সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ এগিয়ে গেল। 

গতকাল (রোববার) ত্রিনিদাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচটি ২ উইকেটে জিতেছে ভারত। শুরুতেই ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১১ রান সংগ্রহ করে উইন্ডিজ। ২ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌছে যায় টিম ইন্ডিয়া। এই নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে চারবার তিনশো রান তাড়া করে জিতল ভারত। সব মিলে উইন্ডিজের বিপক্ষে এটি ভারতের টানা দ্বাদশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে এদিন উইন্ডিজের হয়ে উড়ন্ত সূচনা করেন দুই ওপেনার কাইল মায়ার্স ও শাই হোপ। ৯.১ ওভারে ৬৫ রানের জুটি গড়ে ফেরেন মায়ার্স। তার আগে ২৩ বলে ৬টি চার আর এক ছক্কায় ৩৯ রান করেন তিনি।

এরপর সামারা ব্রুকসকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৪ বলে ৬২ রানের জুটি গড়েন হোপ। ৩৬ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন সামারা। এরপর দ্রুত উইকেট হারান ব্রান্ডন কিং। ৫ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন তিনি। 

এরপর অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১২৭ বলে ১১৭ রানের জুটি গড়েন ওপেনার শাই হোপ। তাদের এই জুটির কল্যাণেই বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয় ক্যারিবীয়রা। ৪৩.৪ ওভারে দলীয় ২৪৭ রানে আউট হন পুরান। তার আগে ৭৭ বলে এক চার আর ৬টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৭৪ রান। 

ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ বলে মাত্র ১৩ রান করে ফেরেন রোভম্যান পাওয়েল। ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের স্কোর ৩০০ গড়ে ইনিংস শেষ হওয়ার সাত বল আগে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন শাই হোপ। এর আগে খেলে যান ১৩৫ বলে ১১৭ রানের চকচকে এক ইনিংস। শেষ ৭ বলে স্কোর বোর্ডে ১১ রান যোগ করতে পারেন রোমারিও সিফার্ড।

ভারতের শুরুটাও নড়বড়ে ছিল। অধিনায়ক ও ওপেনার শিখর ধাওয়ান ৩১ বলে ১৩ করে বিদায় নেন। শুভমান গিলের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান। সূর্যকুমার যাদবও ব্যর্থ। সেখান থেকে ভারতকে টেনে তোলেন সঞ্জু স্যামসন এবং শ্রেয়াস আইয়ার। দুজনে ৯৯ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দেন। আইয়ার ৭১ বলে ৬৩ করে আলজারি জোসেফের শিকার হন। অন্যদিকে ওয়ানডেতে প্ৰথম ফিফটি করার পথে স্যামসন ভারতকে ২০০ পার করিয়ে দেন।

শেষদিকে, ভারতের শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। ব্যাট হাতে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে ওই সময় রোমারিও শেফার্ডকে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২৭ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন অক্ষর। 

৪৭তম ওভারে ভারতের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১৩ রান। ৪৮তম ওভারে আলজারি জোসেফ মাত্র ৪ রান খরচ করলে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ক্যারিবীয়রা। কিন্তু শেষ দুই ওভারে ১২ বলে ১৫ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন অক্ষর। অবশ্য ৪৯ ওভারে জেদন স্মিথ মাত্র ৭ রান খরচ করেন এবং আউট করে দেন আবেশ খানকে। 

শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ৮ রান আসে কাইল মায়ের্সের বলে। প্ৰথম তিন বলে মাত্র ২ রান খরচ করেছিলেন ক্যারিবীয় পেসার। কিন্তু চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন অক্ষর। ৩৫ বলে ৫ ছয় ও ৩ চারে ৬৪ রান করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনিই।