ক্রিকেট > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

‘শিশু বয়সেই’ নিজে জাত চিনিয়েছিলেন পাকিস্তানের ‘নতুন তুর্কি’ আব্দুল্লাহ শফিক

তিন বছর বয়সেও আব্দুল্লাহ শফিক ছিলেন বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ জুলাই ২০২২, দুপুর ১১:৪৬ সময়

[ 20220726_113959.jpg ]

কয়দিন আগেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে ইতিহাস গড়ে পাকিস্তান। চতুর্থ ইনিংসে ৩৪২ রানের পাহাড় ডিঙিয়ে জয় পায় বাবর আজমের দল। এর আগে এই মাঠে আড়াইশ ছাড়ানো রান তাড়ার কীর্তি ছিল কেবল স্বাগতিকদের।

পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ের পিছনে বড় ভূমিকা রাখেন আব্দুল্লাহ শফিক। ওপেনিংয়ে নেমে ১৬০ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়েই মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানের এই নতুন তুর্কি। ৪০৮ বল খেলে ইনিংসটি সাজান এক ছক্কা ও ৭ চারে।

ক্যারিয়ারে মাত্র দুটো ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছিলেন আব্দুল্লাহ শফিক। ২২ বছর বয়সী ব্যাটারকে দলে নিয়ে তখন বেশ সমালোচনারও মুখে পড়েন মিসবাহ-উল হক। শফিক মিসবাহর কথার মূল্য দিচ্ছেন, আর নিজের নামের প্রতিও সুবিচার করছেন।

টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শফিকের বীরোচিত ইনিংসটি ছিলো তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আগের সেঞ্চুরিটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, অপরাজিত ছিলেন ১৩৬।

গত বছর অভিষেক হওয়ার পর থেকে ১১ ইনিংসে ৮০ গড়ে ৭২০ রান করেছেন শফিক, দুটি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি চারটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর ৫২৪ মিনিট স্থায়ী ইনিংসটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সফল রান তাড়ায় সময়ের হিসেবে দীর্ঘতম ইনিংসও।

প্রায় হারতে বসা ম্যাচটি পাকিস্তানকে জিতিয়েছেন। চাপের মুখে এমন অসাধারণ নৈপুণ্যে দেখিয়ে সর্বত্র বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। এবার আব্দুল্লাহ শফিকের বাবাই নিজেই জানিয়েছেন ছেলের এমন পারফরম্যান্সের পিছনের রহস্য। শফিক আহমেদ জানালেন, মাত্র তিন বছর বয়সেই নাকি নিজের জাত চিনিয়েছিলেন পাকিস্তানের নতুন ওপেনার।

“আমি বাড়ি আসার পর দেখলাম আমার ছেলে প্লাস্টিক ব্যাট হাতে শ্যাডো অনুশীলন করছিল। সে তখনও আমাকে খেয়াল করেনি। আমি দেখলাম সে একদম সঠিকভাবে ব্যাট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সামনের পায়ে ভর দিলো ঠিকভাবে এবং রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার অভিনয় করলো।

“আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তাকে ৩-৬ মাস ধরে অনুশীলন করা একটা শিশু মনে হচ্ছিল। আমি সাথে সাথে আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম আবদুল্লাহ কী কারও সাথে ক্রিকেট খেলে কীনা!”

আব্দুল্লাহ শফিকের বাবা আরও বলেন,“সে বুঝতে পারছিল না আমি কী বিষয়ে বলছি। সে আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে বললো দুইদিন আগে সে এই প্লাস্টিকের ব্যাট কিনে আবদুল্লাহকে দিয়েছিল।”

“আমাকে তৎক্ষণাৎ হাসতে দেখে সে আরও অবাক হলো। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না কারও রক্তে এভাবেও ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। আমি বুঝলাম আমার ছেলে স্বাভাবিক আছে। অনেক শিশুকে দেখতাম, মাসের পর মাস অনুশীলন করেও ব্যাট ঠিকমত ধরতেই পারতো না। তাদের থেকে আবদুল্লাহ অনেক এগিয়ে।”