ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী তেমন মানসিকতা আছে তো ক্রিকেটারদের?

সুজন চাইলেন ভয়ডরহীন ক্রিকেট অথচ সেখানেই যেন পিছিয়ে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। মুখপাত্র হিসেবে গনমাধ্যমে কথা বলা মেহেদীর পরোক্ষ মন্তব্য তো সেটিই প্রমাণ করে।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ জুলাই ২০২২, রাত ৮:২০ সময়

[ f9f62f1a-46ca-4a90-9919-ae3c638f0f0a.jfif ]

সমস্যাটা ঠিক কোথায় ? ক্রিকেটারদের অভিমত বলছে, চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল খুব কম। বিসিবি ক্রিকেটারদের নিয়ে যে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছিল সেখানে ভয়ডরহীণ ক্রিকেট খেলার প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, “ আমি চাই ওরা ফ্রিডম নিয়ে খেলুক, ফ্রি হয়ে খেলুক। ওদের বডি ল‍্যাঙ্গুয়েজ কী আছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আমরা টি-টোয়েন্টির মতো খেলতে পারি কি না, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’  কিন্তু তিনি যেভাবে চান ঠিক সেভাবে কি মানষিকভাবে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা? 

জিম্বাবুয়ে যাবার আগে শেখ মাহেদী হাসান গনমাধ্যমের সাথে যেটি বললেন সেটি অবশ্য দ্বিধায় ফেলতে পারে। বলতে গেলে শুরুতেই মানষিকভাবে পিছিয়ে থাকার কথাই যেন জানালেন মেহেদী। দেশ ছাড়ার আগে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন মেহেদী, 'ভাই বেসিক্যালি দেখুন, আমরা বাংলাদেশি, আমরা কেউই পাওয়ার হিটার না। আমরা চাইলেও আন্দ্রে রাসেল বা পোলার্ড হতে পারব না। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যেটুকু আছে তা দিয়ে যতটা উন্নতি করা যায়।'

 'হ্যাঁ, পাওয়ার হিটিং কোচের দরকার। তবে যে স্কিল আছে, কোচ হয়তো ১০ শতাংশ এগিয়ে দেবে। কিন্তু ৩০ শতাংশকে ১০০ শতাংশে পৌঁছে দিতে পারবে না। আমরা জন্মগতভাবেই এরকম। মনে হয় না রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব।'

'আমরা প্রfয় ১৫ বছরের মতো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছি। হলে আরও আগেই হয়ে যেত। যেহেতু হচ্ছে না, এটা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। পাওয়ার হিটিংয়ের কথা সবসময়ই আসে। কিন্তু এটা ঠিক না। সামর্থ্যের বাইরে চাইলেও করতে পারবো না। এটা আপনাদের সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে,' যোগ করেন মেহেদী।

তবে টিটোয়েন্টি ক্রিকেট কি আসলেই শুধু চার ছক্কার খেলা!! টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত পাওয়ার হিটার খুব কমে দেশেই আছে কিন্তু তবুও ওরা কিন্তু এই ফরম্যাটের শীর্ষ দল না। বরং ডট বল কম খেলে ক্যালকুলেটিভ রান করাই এই ফরম্যাটে ভাল করবার মূলমন্ত্র। তার সাথে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস থাকাটা ‍খূব জরুরী। ঠিক সেখানেই যেন গলদ বাংলাদেশ দলে। 

সাকিব আল হাসান এর আগে বারবারই বলেছেন যে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের মানষিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। আগে থেকেই টিটোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ার ক্রিকেট চেষ্টা করতেই যেন আপত্তি। দেশের অন্যতম সেরা কোচ সালাউদ্দিনও বলেছিলেন, “ এখনকার ক্রিকেটারদের সমস্যা হচ্ছে এরা সাকিব তামিমদের ছাড়িয়ে যেতে চাইনা বরং ওদের মত বা কাছাকাছি পারফম করতে পারলেই খূশি থাকে যেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে খূব বড় কিছূ দিতে পারছেনা। ” 

টিম ম্যানেজমেন্ট যেখানে লাইসেন্স দিচ্ছে টিটোয়েন্টিতে একটু আক্রমনাত্বক খেলার, প্রতিপক্ষ যেখানে জিম্বাবুয়ে সেখানেও খোলনচল পাল্টে দেওয়া খেলা উপহার দিতে যেন পিছুটান। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর নিজেদের ঐতিহ্যগত ধরণ থেকে বের হয়ে ইংলিশরা বিশ্বকাপ জিতছে সেখানে আমরা এখনো পেশী শক্তি নিয়েই হিসাব কষছি। 

বিসিবির টিম ম্যানেজমেন্ট তাই চাইলেও আক্রমনাত্বক ক্রিকেটটা সোহান ক্রিকেটারদের থেকে বের করে আনতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে সংশয় আছে বড়সড়।