ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তামিমের যত অর্জন

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে তামিম ইকবালের যত অর্জন।

ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ জুলাই ২০২২, বিকাল ৭:২৯ সময়

[ Screenshot_20220717-192654_Chrome.jpg ]
টুইটার

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ওপেনার বলা হয় তামিম ইকবালকে। অন্তত পরিসংখ্যান তাই বলে। জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর টাইগারদের অনেক উদ্‌যাপনের মুহুর্তে এনে দিয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এতকিছুর মাঝেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন না তামিম। এমনকি, আদৌ বাঁহাতি এই ব্যাটার আর টি-টোয়েন্টি খেলবেন কিনা গত এক বছর ধরেই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচিত প্রশ্ন এটি। অবশেষে তামিমের নীরবতা ভেঙেছে। নিজেই টি-টোয়েন্টির ভবিষ্যত জানিয়ে দিয়েছেন।

গতকাল (শনিবার) গায়ানায় প্রভিডেন্স স্টোডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। শুরুতে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা ১৭৮ রানের সংগ্রহ পায়। টাইগাররা ৬ উইকেট হারিয়ে ৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌছে যায়।

এই নিয়ে ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে সবশেষ টানা ১১ ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে এটি বাংলাদেশের ১৫তম হোয়াইটওয়াশ। দুর্দান্ত এ জয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে মুখোমুখি লড়াইয়েও সমতায় আনলো বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে দুই দলের ৪৪ মুখোমুখি দেখায় উভয় দল ২১টি করে ম্যাচ জিতলো।

সাফল্যের এই দিনেই বাংলাদেশ দলের জন্যে দুঃখের বার্তা নিয়ে আসেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে দলের কাপ্তান আচমকা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ক্রিকেটের এই ছোট্ট সংস্করণকে বিদায় জানিয়ে নিজের ভেরিফাই ফেসবুক একাউন্টে তিনি লিখেছেন, “আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আজকে থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।”

তামিম ইকবালের বিদায়ের মধ্যে দিয়ে ক্রিকেটের ছোট্ট সংস্করণে বাংলাদেশের একটি বর্নিল অধ্যায়েরও ইতি ঘটলো। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হয়ে থাকেন তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের হয়ে  ক্রিকেটের নবীনতম এই সংস্করণে ৭৮টি ম্যাচ খেলে ২৪.০৮ গড় ও ১১৬.৯৬ স্ট্রাইক রেট ১৭৫৮ রান করেছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি দলে তামিম ইকবাল এর অর্জনের খাতাও কমতি নন। তিনিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি করেন তিনি।

তাছাড়া, টাইগারদের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। বাংলাদেশ দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বাধিক ১৮০টি চার, টাইগারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৪৪টি ছক্কা হাঁকানোর ব্যাটারও তিনিই।

তামিম ইকবাল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৫১৪ রান করেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একক আসরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক রান করা ক্রিকেটারও তিনিই। ২০১৬ টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক আসরে ৬ ম্যাচ খেলে তারকা এই ওপেনার রান করেন আসরের সর্বোচ্চ ২৯৫ রান।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বাধিক ৭৮টি ম্যাচ খেলেছেন তামিম। চার- ছক্কার এই সংস্করণে দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৭টি অর্ধশতকেরও মালিক জাতীয় দলের ওয়ানডে কাপ্তান।