ফুটবল > ক্লাব ফুটবল

এমন ইতিহাস গড়ে তারা বলতেই পারে, ‘তেলের টাকায় জ্বলছি, ম্যান সিটি বলছি’

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজার খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করার কীর্তি গড়ল পেপ গার্দিওলার দল।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুলাই ২০২২, দুপুর ১২:৩৬ সময়

[ Screenshot_20220728-123441_Gallery.jpg ]

বেশিদিন আগের কথা নয়। এই শতকের শুরুর দিকে আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল, ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, কিংবা জোসে মরিনহোর চেলসি যখন প্রিমিয়ার লিগে রাজত্ব করত; তখন ম্যানচেস্টার সিটি সাধারণ মানের একটি ক্লাব মাত্র।

লিগের শিরোপা বা শক্ত প্রতিপক্ষ, কোনো তকমাই এই দলের সাথে যেত না। কিন্তু বিগত দশকের শুরু থেকে একটি সাধারণ মানের ক্লাব বদলে যেতে শুরু করে। ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি ম্যানচেস্টার সিটিকে ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া শুরু করেন। আর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জেতার পরই মূলত ম্যানচেস্টার সিটি গড়ে ওঠে বড় দল হিসেবে। পেপ গার্দিওলা এসে যার পরিপূর্ণতা দিয়েছে।

এতকিছুর পরও ম্যানচেস্টার সিটি শুধু আরবের তেলের জোরে একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই এটিই সবচেয়ে চর্চিত খবর হয়ে আসছে। নিন্দুকরা এসব বলে পেপ গার্দিওলার দলের অসাধারণ অর্জন ছোট করারও চেষ্টা করে। 

অথচ, আরবের তেলের টাকায় ফুলেফেঁপে উঠা ক্লাবটি ই এবার গড়ে ফেলেছে অসাধারণ একটি কীর্তি। সব সময় টাকার জোরে অন্য ক্লাবের খেলোয়াড়দের দিকে নজর দিলেও এবার নিজেরাই খেলোয়াড় বিক্রি করে রেকর্ড পরিমাণ টাকা আয় করেছে।

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করার কীর্তি গড়েছে পেপ গার্দিওলার দল। এবারের দলবদলের বাজারেই এমন নজির গড়েছে ইত্তিহাদের ক্লাবটি। 

নিজেদের খেলোয়াড় বিক্রি করেই ইত্তিহাদের ক্লাবটির প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সব চেয়ে বেশি টাকা আয় করেছে। ইউরোপের অন্য ক্লাবে নিজেদের খেলোয়াড় বিক্রি করে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা এবার আয় করেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান এমন খবরই করেছে।

এতদিন ধরে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্লাব ছিলো চেলসি। পাঁচ বছর আগে স্টামফোর্ড ব্রীজের ক্লাবটি নিজেদের খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছিলো ১৬৬ মিলিয়ন পাউন্ড। ম্যান সিটি এবার ১৭৪ মিলিয়ন পাউন্ডের সমান খেলোয়াড় বিক্রি করে সেটিও টপকে গেল। 

গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে এখন পর্যন্ত দশজন ফুটবলার বিক্রি করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আরও বেশ কিছু ফুটবলারকে বিদায় জানানোর আনুষঙ্গিকতা সম্পন্ন করেছে ক্লাবটি। 

সপ্তাহ দুয়েক আগে রহিম স্টার্লিংকে ছেড়ে দেয় ম্যান সিটি। ইংলিশ তারকার জন্য চেলসির কাছে সাড়ে ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ড পকেটে পুরে ক্লাবটি। আক্রমণভাগের আরেক তারকা গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে বিদায় করেও ভালো টাকা আয় করেছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে আর্সেনালের কাছে বিক্রি করে সিটির আয় হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড। 

চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে পরের দানটিও মেরেছে গানার্সদের কাছ থেকে। লন্ডনের ক্লাবটি কাছে ইউক্রেনের অলেকসান্দ্র জিনজেঙ্কোকেও বিক্রি করে ৩২ মিলিয়ন পাউন্ড ভাগিয়ে নিয়েছে তারা।

ইংল্যান্ডের আরও ক্লাব সাউদাম্পটন ও বার্নলি কাছেও দুজন করে ফুটবলার বিক্রি করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তাদের মধ্যেই আইরিশ গোলরক্ষক গাভিন বাজুনু ও বেলজিয়ান মিডফিল্ডার রোমেও লাভিয়াকে কিনে সাউদাম্পটন খরচ করেছে ২৯ মিলিয়ন পাউন্ড। আর আরও মুরিচ ও ইগান রিলেকে কিনে দলে ভেড়াতে বার্নলি খরচ করেছে সাড়ে তিন মিলিয়ন পাউন্ড। 

রেকর্ড গড়া এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সিটির বাকি টাকা আয় হয়েছে পেদ্রো পোরো, ডার্কো গাইয়াবি এবং কো ইটাকুরাকে বিক্রি করে। এই তিনজনকে যথাক্রমে স্পোর্টিং সিপি, লিডস ইউনাইটেড ও মুনশেনগ্লাডবাতে বিক্রি করে পেপ গার্দিওলার দল ১৭ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে। 

এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজার এখনও শেষ হয়নি। গুঞ্জন উঠছে, দলের মধ্যমাঠের অন্যতম সেরা কান্ডারী বার্নাডো সিলভাকেও ছেড়ে দিতে পারে ম্যান সিটি। পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডারের জন্যে সিটিজেনরা ৬৭ মিলিয়ন পাউন্ড ট্যাগ বসিয়ে দিয়েছে। 

যদি এমন অর্থেই ২৭ বছর তারকাকে বিক্রি করতে পারে তাহলে এবার সিটির খেলোয়াড় বিক্রি করে আয়ের পরিমাণ দুশো মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে। এতে শুধুমাত্র তেলের টাকাই জ্বলছে সিটি বলা নিন্দুকদের মুখও কিছু হলেও বন্ধ হবে!