ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

মোসাদ্দেক ‘ঘূর্ণি-জাদুর’ পর লিটনের অর্ধশতকে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ।

ডেস্ক রিপোর্ট

৩১ জুলাই ২০২২, রাত ৮:১৮ সময়

[ 20220731_201248.jpg ]

প্রথম ম্যাচে ছন্নছাড়া বোলিংয়ে সিকান্দার রাজার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রানের চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দুশোর বেশি রান তাড়া করতে নেমে লড়াই করেও ১৭ রানে হারে তারুণ্যে ঠাসা দলটি। তাই, নিজেদের অতি চেনা ও সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজে সমতায় ফিরতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জিততেই হতো টাইগারদের।

এমন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছে নুরুল হাসান সোহানের দল। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ভেলকিতে চুপসে গিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগাররা ম্যাচটি জিতেছে অতি সাবধানে খেলেই।

আজ (রোববার) হারারেতে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ডানহাতি অফ স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের তোপের মুখে পড়ে ১৩৫ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ওপেনার লিটন কুমার দাসের অর্ধশতক ও আফিফ হোসাইন ধ্রুবের ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংসের ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় সফরকারীরা।

টসে হেরে বল করতে নেমে শুরুতেই সবাইকে চমকে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। বল তুলে দেন ডান হাতি স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে। অধিনায়কের মান রাখতে প্রথম বলেই রেজিস চাকাভাকে ফেরান মোসাদ্দেক। প্রথম ওভারে তিনি উইকেট নেন আরও একটি, ষষ্ঠ বলে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন ওয়েসলি মাধেভেরেকে। 

পরের তিন ওভারে আরও একটি করে উইকেট নেন মোসাদ্দেক। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে তুলে নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেগ আরভিনকে। এরপর ফেরান শন উইলিয়ামস ও মিল্টন শুম্বাকে। মোসাদ্দেক ঘূর্ণি জাদুতেই ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। 

এভাবে ধুকতে থাকা স্বাগতিকদের হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন সিকান্দার রাজা ও রায়ার্ন বার্লের। দায়িত্বশীল ব‍্যাটিংয়ে দুই জনে ৪৬ বলে গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি। যেখানে ১২ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের রান ছিল ৫ উইকেটে ৫৫। ১৮তম ওভারে বার্লকে ফেরান হাসান মাহমুদ। 

পরের ওভারেই সিকান্দার রাজাকে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। আউট হওয়ার আগে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ৫৩ বলে খেলে যান ৬৩ রানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে ২০ রান খরচে ৫ উইকেট শিকার করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ১টি করে উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। 

সিরিজে সমতায় ফিরতে অল্প লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালিয়ে যান ওপেনার লিটন কুমার দাস। তাকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি আগের ম্যাচে ৮ বলে ৪ রানে ফেরা ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। এদিন তিনি ফেরেন ৮ বলে ৭ রান করে। 

মুনিম আউট হওয়ার পর দাপুটে ব্যাটিং করে যাওয়া লিটন দাস নিজের ক্যারিয়ারের ৫৩তম টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নিয়ে আউট হন। ৩৩ বলে ৬টি চার আর ২টি ছক্কায় ৫৬ রান করে ফেরেন লিটন। লিটন আউট হওয়ার মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ফেরেন এনামুল হক বিজয় (১৬)। 

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ৪৮ বলে ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ১৫ বল আগেই দলকে ৭ উইকেটের জয় উপহার দেন আফিফ হোসেন। দলের জয়ে ২৮ বলে ৩০ আর ২১ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন আফিফ ও শান্ত।

দুর্দান্ত এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার হারারের একই ভেন্যুতে সিরিজের অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। সেই ম্যাচে যারা জিতবে সিরিজ জয়ের উল্লাস তারাই করবে। গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর চার সিরিজ মিলিয়ে ৯ ম‍্যাচের আটটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। একমাত্র জয়টি এসেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।