ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

নিজেকে ‘বিশেষজ্ঞ বোলার’-ই মনে করেন মোসাদ্দেক

বল হাতে পেলে নিজেকে ‘অনিয়মিত’ বোলার মনে করেন না জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ উইকেট শিকার করা এই স্পিনার।

ডেস্ক রিপোর্ট

১ আগস্ট ২০২২, দুপুর ১০:৪০ সময়

[ Screenshot_20220801-103428_Facebook.jpg ]

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুতেই চমকে দিয়েছিলেন কাপ্তান নুরুল হাসান সোহান। সিরিজ বাঁচাতে তিনি বল হাতে তুলে দেন অনিয়মিত বোলার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের হাতে।

এর আগে কখনওই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শুরুতে বল করার অভিজ্ঞতা ছিলো না মোসাদ্দেকের। তার উপর আবার চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে নেমেও কেন একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডারের হাতেই ইনিংস ওপেন করার জন্য বল দিলেন কাপ্তান- সবাইকে রীতিমতো অবাক করে।

কিন্তু, অধিনায়কের মুখ বাঁচিয়েছেন। ঘূর্ণি জাদুতে ডানহাতি এই স্পিনার সোহানের স্বীদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

হারারেতে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনারের বিষেই নীল হয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। ২০ রানে ৫ উইকেট শিকার করে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইন-আপের কোমর একাই ভেঙে দিয়েছেন মোসাদ্দেক।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম স্পিনার হিসেবে এক ইনিংসের প্রথম পাঁচ উইকেটের সবকটি উইকেট শিকার করলেন মোসাদ্দেক। বাংলাদেশের মাত্র চতুর্থ বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারদের এলিট ক্লাবে ডুকলেন তিনি। তাঁর আগে ইলিয়াস সানি, সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান এই কীর্তি গড়েছিলেন।

তাছাড়া, বাংলাদেশের কোনো ডানহাতি স্পিনারের জন্য টি-টোয়েন্টিতে এখন এটিই সেরা বোলিং ফিগার। এর আগের রেকর্ডটি ছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ১০ রানে ৩ উইকেট।

‘অনিয়মিত’ বোলার হয়েও এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ে করে এখন প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন মোসাদ্দেক। দলকে জেতাতে পেরে খুশি এই অলরাউন্ডারও। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, বল হাতে পেলে নিজেকে অনিয়মিত নন, বিশেষজ্ঞ বোলারই বল করেন।

“আমি যখন বোলিং করি, তখন কখনোই ভাবি না যে আমি অনিয়মিত বোলার। বোলিংয়ে আমি সব সময় নিয়মিত বোলারের দায়িত্বটাই নেওয়ার চেষ্টা করি।”

“আমি কোনো কিছু মাথায় নিয়ে বোলিং করিনি। ভালো জায়গায় বল ফেলেছি, সে জন্য হয়তো সফল হয়েছি।”

অসাধারণ জয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি এখন ১-১ সমতায়। আগামীকাল (মঙ্গলবার) হারারের একই ভেন্যুতে সিরিজের অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। সেই ম্যাচে যারা জিতবে সিরিজ জয়ের উল্লাস তারাই করবে। মোসাদ্দেকের আশাবাদী, পরের ম্যাচও জিতে সিরিজ জয় নিয়ে দেশে ফিরবে টাইগাররা।

“আমরা যদি আমাদের প্রক্রিয়াগুলো ঠিক রাখতে পারি, যে কাজগুলো এই ম্যাচে করেছি, তা ধরে রাখতে পারলে অবশ্যই সিরিজ জয় করা সম্ভব।”