ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

প্রথমবার জিম্বাবুয়ের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের লজ্জা পেল বাংলাদেশ

অতি চেনা ও সবচেয়ে প্রিয় জিম্বাবুয়ের কাছেও সিরিজ হারল টাইগাররা।

ডেস্ক রিপোর্ট

২ আগস্ট ২০২২, রাত ৮:৪১ সময়

[ 20220802_203628.jpg ]

টি-টোয়েন্টিতে একের পর ব্যর্থতায় অনেকটা তারুণ্যে ঠাসা দল নিয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে যায় বাংলাদেশ। অতি চেনা ও সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হার, দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। 

অঘোষিত ফাইনালে মাঠে নামার আগেই নাটকীয়তা। চোটের কারণে অধিনায়ককে হারিয়ে ফেলা, এরপর নতুন অধিনায়ক। দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। হারারেতে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিতে যেন মরিয়া ছিলো রাসেল ডোমিঙ্গোর দল।

কিন্তু, এতকিছু করেও নতুন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অধীনে শেষ ম্যাচটি জিততে পারল না সফরকারীরা। শেষ দিকে অদ্ভূতুড়ে বোলিং আর টপ অর্ডারের অসীম ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছেও সিরিজ হারল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজটি স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে জিতল। 

আজ (মঙ্গলবার) হারারেতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। টসে জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত বিশ ওভার শেষে ১৪৬ রানেই থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস। 

ঘরের মাঠে অঘোষিত ফাইনালেও টানা তৃতীয়বার টসে জিতে জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রানের ওপেনিং জুটির পর বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। ৬৭ রানে নেই হয়ে যায় ৬ উইকেট। এরপরেই ব্যাট হাতে ঝলসে ওঠেন রায়ান বার্ল। নাসুমের  এক ওভারে পাঁচ ছক্কা এক চারে নেন ৩৪ রান। ২৪ বলে করেন ফিফটি। 

শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে তার সংগ্রহ ২৮ বলে ২ চার ৬ ছক্কায় ৫৪ রান। তার ৩১ বলে ৭৯ রানের সপ্তম উইকেট জুটি গড়া লুক জঙ্গুই ২০ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৩৫ রান করেন। মেহেদি হাসান এবং হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া বাকি চার বোলার নেন ১টি করে।

মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই হাঁকান বাউন্ডারি লিটন কুমার দাস। ভিক্টর নিয়াউচির করা দ্বিতীয় ওভারটাও তিনি বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করেছিলেন। তবে পরের বলেই কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে যান ৬ বলে ১৩ রান করে।

মুনিম শাহরিয়ারের জায়গায় সুযোগ পাওয়া আরেক ওপেনার পারভেজ ইমন মাত্র ২ রান করে ফিরলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তিনে নেমে এনামুল হক বিজয় টানা তিন ম্যাচেই ব্যর্থ হলেন।

১৩ বলে ১৪ রান করে মাধভেরের বলে বোল্ড হলে ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ধস ঠেকাতে গিয়ে ধীরগতির ব্যাটিং শুরু করেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

২০ বলে ১৬ রান করা শান্ত ক্যাচ দিয়ে ফিরলে দলীয় ৬০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। উইকেটে এসে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং শুরু করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৩০ বলে ৩৯ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙে সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে।

ব্রাড ইভান্সের বলে ২৭ বলে ২৭ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তিনি। নতুন অধিনায়ক মোসাদ্দেকও টিকে থাকতে পারেননি। ‘গোল্ডেন ডাক’ মারেন আগের ম্যাচে ঘূর্ণি-জাদুতে জয়ে নায়ক। ৯৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে টাইগাররা।

এরপর শেখ মেহেদীকে নিয়ে ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন আফিফ।  বাংলাদেশের তখন ২ ওভারে দরকার ২৬। ২৪ বলে ৩৪ রানের ৭ম উইকেট জুটির অবসান হয় ভিক্টর নিয়াউচির বলে ২২ রান করা মেহেদির বিদায়ে।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রানের। সেই সমীকরণ আর মেলানো সম্ভব হয়নি। ওই ওভারে কোনো বাউন্ডারিই মারতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো লুকি জঙ্গুইয়ের বলে আউট হন হাসান মাহমুদ (৩)।

শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ১৩ রানের। বাংলাদেশ থামে ৮ উইকেটে ১৪৬ রান তুলে। ১০ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে জিম্বাবুয়ে। ভিক্টর নিয়াউচি ২৯ রানে নেন ৩ উইকেট। ব্র্যাড ইভান্স ২ উইকেট নিয়েছেন ২৬ রানে।