ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

সাকিবের বেটিং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চুক্তিতে বিব্রত বিসিবি, হতে পারে ফৌজদারী মামলাও

সম্প্রতি ইউরোপের অফশোর ব্যাংকিংয়ের স্বর্গরাজ্য ম্যারিকিট হোল্ডিংসের মালিকানাধীন বেটিং সাইটের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করেছেন সাকিব

ডেস্ক রিপোর্ট

৪ আগস্ট ২০২২, দুপুর ১২:৫৭ সময়

[ IMG_20220804_125642.jpg ]

মাত্র কয়েকদিন আগেই সাকিব আল হাসান নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফরমে একটা বেটিং ভিত্তিক নিউজ পোর্টালের সাথে কাজ করবার ছবি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জুয়া কিংবা জুয়া সংক্রান্ত যে কোন চুক্তি অবৈধ এবং নিষিদ্ধ।  সে আইন অনুযায়ী সাকিব ফেঁসে যেতেই পারেন ফৌজদারী আদালতে। বলা হয়েছে, সাকিব চুক্তি করেছেন অনলাইন পোর্টালের সাথে কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের। এমনকি ওয়েবসাইটও বাংলাদেশ সরকার কতৃক ব্লক করা আছে অনেক আগে থেকেই৷ 

১৮৬৭ সালের আইন অনুযায়ী এটি দ্বন্ডনীয় অপরাধ। এমনকি সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদেও নৈতিকতা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্র জুয়া নিরোধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে বলে বলা হয়েছে। সরকারী আইনই শুধু না, সাকিব আল হাসান ভঙ্গ করেছেন বিসিবির সাথে চুক্তির শর্তও। বিসিবির সাথে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সাকিব আল হাসান কোন বাণিজ্যিক চুক্তি করবার আগে অবশ্যই বিসিবিকে অবহিত করে অনুমোদন নিবেন এবং এটিকে বাধ্যতামুলক বলছে বোর্ড। 

কিন্তু সাকিব সেসবের তোয়াক্কাই করেননি। আকস্মিক এই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিব্রত। শুরুতে সাকিবের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে বিসিবি যেখানে সাকিবের কাছে জানতে চাওয়া হবে তাকে ভুল বোঝানো হয়েছে কিনা। একটি জাতীয় পত্রিকাকে দেওয়া বক্তব্যে বিসিবির প্রধান নির্বাহী একটু সময় নিতে চান সাকিব দেশে আসা পর্যন্ত। 

বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান হলে সাকিবের বিরুদ্ধে কঠিন কোন সিদ্ধান্তে যাবেনা বোর্ড। তবে বিষয়টি সাকিব বুঝতে না চাইলে জটিল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। 

নাম প্রকাশ না করবার শর্তে একজন বোর্ড পরিচালক ডেইলি স্পোর্টসবিডিকে বলেন, " সাকিব যদি এটা আপোস করে মেনে নেন তাহলে ঠিক আছে। তবে তিনি যদি বিষয়টি নিয়ে পরিবর্তনে না আসেন যেমনটা তিনি আগেও করেছেন তবে সেক্ষেত্রে বোর্ড সরাসরি কিছু করতে পারবে কিনা নিশ্চিত না। দেখুন কেউ যদি হাইকোর্টে রিট দায়ের করে এই ব্যাপারে তবে ব্যাপারটা রাষ্ট্র মামলা পর্যন্ত চলে যেতে পারে। এতে অবশ্যই সাকিব ও বোর্ডের ক্ষতি হবে। " 

হাই কোর্টের একজন জ্রোষ্ঠ উকিল ডেইলি স্পোর্টসবিডিকে জানান, " এটি অনেক স্পর্শকাতর একটা বিষয়। প্রচলিত জুয়া আইনে আমাদের দেশে তিন মাসের জেলের কথা বলা আছে তবে জুয়ার আশ্রয় নিয়ে মানি লন্ডারিংয়ের সুযোগ থাকলে সেটি আরো জটিল প্রক্রিয়া৷ অনলাইনের ক্ষেত্রে তেমন কোন স্পষ্ট যুক্তি নেই তবে যে ওয়েবসাইট সরাসরি রাষ্ট্র থেকে নিষিদ্ধ করা আছে, প্রবেশাধিকার নেই সেটিতে লেনদেন বা চুক্তি হওয়াটা আইনের বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। " 

সাকিব দেশে ফিরলেই সাকিবকে নিয়ে বসতে পারে বোর্ড। সাকিব সহযোগিতা করলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বোর্ড সবরকম সহযোগিতা করবে তবে সাকিব উল্টো পথে হাটলে বিষয়টি অন্য দিকে যেতেই পারে।