ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

কাইয়া-রাজার রেকর্ড জুটিতে তিনশো করেও হারল বাংলাদেশ

ওয়ানডেতে টানা ১৯ ম্যাচ জয়ের পর জিম্বাবুয়ের কাছে হারের মুখ দেখল টাইগাররা।

ডেস্ক রিপোর্ট

৫ আগস্ট ২০২২, রাত ৯:২৪ সময়

[ 20220805_211421.jpg ]

জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে কিছুতেই যেন বের হয়ে আসতে পারছে না বাংলাদেশ। ইতিহাসের প্রথমবার দলটির কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের লজ্জা পেয়েছিলো টাইগাররা। এবার, নিজেদের সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতেও হার দিয়ে শুরু দলটির। 

চার ফিফটিতে তিনশো রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েও জিততে পারেনি তামিম ইকবালের দল। ইনোসেন্ট কাইয়া ও সিকান্দার রাজার দুই শতকে রেকর্ডগড়া জুটিতে ওয়ানডে সিরিজও জয় দিয়ে শুরু করল স্বাগতিকরা। টানা ১৯ ম্যাচ জয়ের পর জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে ক্রিকেটে হারের তেতো স্বাদ পেল টাইগাররা। 

আজ (শুক্রবার) হারেরেতে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতেছে জিম্বাবুয়ে। টসে হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটে ৩০৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১০ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাগিস চাকাবার দল। 

স্বাগতিকদের হয়ে শতক হাঁকিয়েছেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও সিকান্দার রাজা। ওপেনারদের ব্যর্থতার পর দুজন মিলে গড়েছেন ১৯২ রানের জুটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে যেকোন দলের এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড। দুজনের জুটিতে ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয়ের দেখা পেল জিম্বাবুয়ে।

হারেরেতে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাসের ব্যাটে আসে ১১৯ জুটি পায়। অধিনায়ক তামিম ব্যক্তিগত ৬২ রানে ফিরলে ভাঙে জুটিটি। 

তামিমের বিদায়ের পর তিন বছর পর ওয়ানডে ফরম্যাটে মাঠে নামেন আনামুল হক বিজয়। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। মাঠে নেমেই লিটনের সঙ্গে ছয় ওভারের মধ্যে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন বিজয়।

এরমধ্যে অবশ্য লিটন ব্যক্তিগত ফিফটি ছুঁয়ে শতকের পথে ছুটতে থাকেন। ৭৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া লিটন পরের ১৪ বলে তোলেন ৩১ রান। ৮৯ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে ৮১ রান করে পায়ের পেশিতে টান পড়ায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

লিটন ফিরলেও চারে নামা মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে দারুণ গতিতে ছুটতে থাকেন বিজয়। ৯৬ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। এরমধ্যে ৪৭ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া বিজয় ৬২ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৭৩ রান করে ভিক্টর নিউইচির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন।

বিজয় ফিরলেও টাইগারদের রানের গতি সচল রাখেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরমধ্যে মুশফিকও ফিফটি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত মুশফিক ৫২ এবং মাহমুদউল্লাহ ২০ রান করে টাইগারদের তিন শ রানের কৌটা পার করে।

তিনশোর বেশি রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারায় জিম্বাবুয়ে। ৬ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের প্রাথমিক বিপর্যয় কাটায় কাইয়া এবং ওয়েসলি মাধভেরে। এই দুইজন তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন।

মাধভেরে ১৯ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটিটি। দলীয় ১৩ ওভারের মাথায় ৬২ রানে ৩ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে এরপরের ২৮ ওভারে হারায়নি আর কোনো উইকেট। এই সময়ে রাজাকে নিয়ে ১৯২ রানের জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের পথে রাখেন কাইয়া।

এর আগে ৩ ম্যাচে ১১৮ রান করা কাইয়া এদিন ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে করেছেন আরও ১১০ রান। ১২২ বলে ১১ চার ও ২ ছয়ে এই ইনিংস সাজান কাইয়া। শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেকের বলে শরীফুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

কাইয়া কিছুটা ধীরস্থির ইনিংস খেললেও রাজা দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন। ৮১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছয়ে নিজের শতক পূর্ণ করেন রাজা। অপরপ্রান্তে রান ও বলের ব্যবধান কমিয়ে জিম্বাবুয়ের জয়ের ভাগ্য নিজেদের দিকে নিয়ে নেন এই জিম্বাবুইয়ান।

শেষ পর্যন্ত ১০৯ বলে ৮টি চার ও ৬টি ছয়ে ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলের জয় নিশ্চিত করেন রাজা। শেষদিকে লুক জঙ্গয়ে ১৯ বলে খেলেন ২৪ রানের ইনিংস।