ক্রিকেট > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

এশিয়া কাপ: সবচেয়ে বেশি শিরোপা ভারতের, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উজ্জ্বল শ্রীলঙ্কা

এশিয়া কাপের খুটিনাটি।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ আগস্ট ২০২২, দুপুর ২:২৪ সময়

[ Screenshot_20220827-141439_Picsart.jpg ]

করোনাভাইরাসের কারণে পরপর দুইবার এশিয়া কাপ বাতিল হয়েছে। চলতি বছরের আসর শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা থাকলেও দেখা দেয় নানা অনিশ্চয়তা। শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে শঙ্কা জাগে এবারের আসর নিয়ে।

নানা নাটকীয়তা শেষে চার বছর পর অবশেষে পর্দা উঠছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টের ১৫তম আসরের। আসর সংযুক্ত আরব আমিরাতে হলেও আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কার নামই থাকবে।

আজ (শনিবার) এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক দেশ শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। রাত আটটায় দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টোডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এক দিন পরই একই মাঠে গড়াবে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই।

এশিয়ান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় বেশ দাপট রয়েছে ক্রিকেটের সুপার পাওয়ার ভারতের। এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সর্বাধিক ফাইনাল খেলার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি শিরোপাও গেছে টিম ইন্ডিয়ার হাতে। তবে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বরাবর উজ্জ্বল ছিলো শ্রীলঙ্কা।

এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণ মিলিয়ে মোট ১২ বার অংশগ্রহণ করেছে ভারত। যেখানে ১০ বারই আসরের ফাইনাল খেলেছে দেশটি। শিরোপাও ঘরে তুলেছে সর্বাধিক ৭টি। ভারতের চেয়েও বেশিবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে শ্রীলঙ্কা।

লঙ্কানরা ১২ আসরে অংশগ্রহণ করে রেকর্ড ১১বার আসরের ফাইনাল খেলেছে। যদিও, শিরোপা জিতেছে ৫টি। ভারত ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া কেবল পাকিস্তানের ঘরেই গিয়েছে দুটো শিরোপা। অন্যদিকে, প্রতিযোগিতায় সবশেষ চার আসরের তিনবারই ফাইনাল খেলে এখনও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি বাংলাদেশের।

এশিয়ান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় শিরোপার বিচারে ভারত এগিয়ে থাকলেও  দলীয় পারফরম্যান্সের বিচারে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। এশিয়া কাপের ওয়ানডে সংস্করণে লঙ্কানরা ৫০ ম্যাচ খেলে ৩৪টি জিতেছে, হেরেছে ১৬টিতে। জয়ের হার ৬৮ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে ভারত। তবে, জিতেছে ৩ ম্যাচ কম। ৪৯ ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার জয় ৩১টি। আর হেরেছে ১৬টি। জয়ের হার ৬৫.৬২ শতাংশ।

তবে, টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এগিয়ে ভারত। দুবার এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণে হওয়া সবকটি আসরই জিতেছে। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এই প্রতিযোগিতায় দুই আসরে ৫ ম্যাচের শতভাগ জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। ভারতের পর টি-টোয়েন্টি সংস্করণে সফল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের এই সংস্করণে ৫ ম্যাচের ৩টি জিতেছে। 

এশিয়া কাপে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রান দাতা ও সর্বাধিক উইকেট শিকারী দুটো রেকর্ডই লঙ্কানদের দখলে।

এই প্রতিযোগিতায় ২৫ ম্যাচ খেলে ৫৪.০৪ গড়ে সর্বোচ্চ ১২২০ রান করেছেন শ্রীলঙ্কার তারকা অলরাউন্ডার সনাৎ জয়সুরিয়া। এশিয়া কাপে সর্বাধিক ৬টি সেঞ্চুরির মালিকও তিনিই। ‘মাতারা হারিকেন’ খ্যাত এই তারকার পর সর্বোচ্চ রানদাতার মালিকও শ্রীলঙ্কার।

লঙ্কান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা এশিয়া কাপে ২৬ ম্যাচে ৪৮.৮৬ গড়ে রান করেছেন ১০৭৫। প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক ৮টি অর্ধশতকের মালিকও তিনিই। এশিয়া কাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানদাতা ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ভারতীয় কিংবদন্তি ২৩ ম্যাচে ৫১.১০ গড়ে ৯৭১ রান করেছেন।

সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে পরের দুজন হলেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক (৭৮৬) ও ভারতের রোহিত শর্মার (৭৪৫)। ৬৫.৫০ গড় নিয়ে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি গড় পাক অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকের।

এশিয়ান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় সেরা তিনজনই শ্রীলঙ্কার। এশিয়া কাপে ২৪ ম্যাচে রেকর্ড ৩০ উইকেট শিকার করেছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন।  ১৪ ম্যাচে ২৯ উইকেটের মালিল লাসিথ মালিঙ্গ।  মাত্র ৮ ম্যাচেই ২৬ উইকেট শিকার করেছেন সাড়া জাগানো স্পিনার অজান্তা মেন্ডিস।

১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট শিকার করে তালিকায় চারে আছেন পাক স্পিনার সাঈদ আজমল। ১৯ ম্যাচে ২৩ উইকেট শিকার করেছেন শ্রীলঙ্কার চামিন্দা ভাস।

এশিয়া কাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি বিরাট কোহলির দখলে। ২০১২ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮৩ রানের এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতায় এক আসরে সর্বোচ্চ রান সনাৎ জয়সূরিয়ার। ২০০৮ সালে লঙ্কান কিংবদন্তি ৩৭৮ রান করেছিলেন।

বোলিংয়ে সেরা ফিগার অজান্তা মেন্ডিসের। ২০০৮ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১৩ রান খরচ করে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন রহস্যময়ী এই স্পিনার। সেবার এক আসরে সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট শিকারের রেকর্ডও করেছিলেন তিনি।

উইকেটরক্ষকদের মধ্যে সর্বাধিক ৩৬ ডিসমিসালের মালিক ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনী। তবে, সবচেয়ে বেশি ১৫ ক্যাচের রেকর্ড মাহেলা জয়াবর্ধনের।

এশিয়া কাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড পাকিস্তানের দখলে। ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩৮৫ রান করেছিলো দলটি। প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কম রান আউট হওয়ার রেকর্ডটিও টাইগার দের। ২০০০ সালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ৮৭ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশ।