ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

'আফগান পাওয়ার'-এর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের

১২৭ রানের পুঁজি ১৫ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখলেও পরে সেটি আর বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাতে পারেনি।

ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ আগস্ট ২০২২, রাত ১১:২৩ সময়

[ 20220830_232227.jpg ]

শারজাহ্তে প্রতিটা ডট বলের পর দর্শকদের চেচিয়ে ওঠার দৃশ্যটা বোধহয় মাঠের সবথেকে দারুন কিছু ছিল। মাত্র ১২৭ রানের লক্ষ্য থেকেও ম্যাচ সিনারিও পরিবর্তন করে এভাবে নিজেদের পক্ষে আনা যায় তা হইতো এই ম্যাচেই বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করলো। কিন্তু সেই ম্যাচই আবার নিজেদেরই বাজে বোলিংয়ে হেরে গেছে বাংলাদেশ। 

পাওয়ার প্লেতেই সাকিব করে ফেললেন তিন ওভার। ভয়ংকর হয়ে ওঠা গুরবাজকে ফিরিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে থাকবার ইঙ্গিত দেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এরপর মোসাদ্দেক সৈকতের দারুন বোলিংয়ে চাপে পরে বাংলাদেশ। 

প্রথম থেকেই অস্বস্তিতে থাকা হজরতুল্লাহ্ জাজাইকে ফেরান মোসাদ্দেক সৈকত। এরপর সাইফুদ্দিন এসেই ফেরান মোহাম্মদ নবীকে। এরপর নাজিবুল্লাহ্ জাদরানের শক্তির কাছে অসহায় আর্ত্মসমপর্ন করে বাংলাদেশের বোলাররা। 

মুস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে দুই ছক্কা আর পরের সাইফুদ্দিনের ওভারে আরো দুই ওভার বাউন্ডারি বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন নাজিবুল্লাহ্ জাদরান। 

২৫২ স্ট্রাইকরেটে ১৭ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। একটি চার এবং ছয়টি ছক্কা মারেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেওয়া ইব্রাহীম জান্নাত করেছেন অপরাজিত মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ২ ওভারে দিয়েছেন ২৭ রান। মুস্তাফিজুর দিয়েছেন ৩ ওভারে ৩০ রান। 

এর আগে শুরুতে মনে হয়েছে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যেতে পারে ১০০ রানের আগেই। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২৭ বলে ২৫ রান দেখতে কিছুটা দৃষ্টিকটু হলেও বাংলাদেশকে মোটামুটি একটা সংগ্রহ এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে মূল নায়ক মোসাদ্দেক সৈকতের ৩১ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ দল ১২৭ রানের পুঁজি দাড় করাতে পারে।

পাওয়ারপ্লেতে ব্যাটসম্যানদের নাজুক অবস্থা ছিল চোখে পরার মত। মুজিবকেই সামলাতে পারেনি প্রথম তিনজনের কেউই৷ প্রথম ওভারে বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংস শুরু করা নাইম শেখ ৮ বলে ৬ রান করে বোল্ড হয়ে যান মুজিবের বলে। যেন মুজিবের ক্যারাম বোলিং বুঝতেই পারেননি তিনি। 

পরের ওভারেই আনামুল হক বিজয়কে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন মুজিব। ১৪ বলে ৫ রান করেন তিনি। সাকিব আল হাসান কিছুটা আক্রমনাত্বকভাবে শুরু করলেও বাজে শট খেলে আউট হয়ে যান মুজিবের বলে। এরপর দৃশ্যপটে আসেন রশীদ খান। 

মুশফিকুর রহিম ফেরান মাত্র ব্যক্তিগত এক রানে। ১৫ বল খেলে ১২ রান করা আফিফও ফিরে যান রশীদের গুগলি বুঝতে না পেরে৷ এরপরই যেন ত্রাতা হয়ে আসেন মোসাদ্দেক সৈকত।  মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সঙ্গ দিয়ে গেছেন একপাশ থেকে, অন্যপাশ থেকে রানের চাকা সচল রেখেছেন মোসাদ্দেক সৈকত। 

মোসাদ্দেক সৈকতের ৩১ বলে ৪৮ এবং শেখ মাহেদীর ১২ বলে ১৪ রানের সুবাদে ১২৭ রানের লক্ষ্য দাড় করাতে পারে বাংলাদেশ।