ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

২০০৩ সালে বড় ভাইরা সাফ জিতেছিল, এবার আমরা জিতবো : বাংলাদেশ মিডফিল্ডার সানজিদা

সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, রাত ৯:৮ সময়

[ FB_IMG_1663513275471.jpg ]

২০০৩ সালে বাংলাদেশ সাফ জিতেছিল। ছেলেরা এরপর আর দেশের ফুটবলকে শিরোপা জেতাতে পারেনি। ছেলেরা না পারলেও মেয়েরা বাংলাদেশকে সাফ জেতানোর আরো একটি সুযোগ পাচ্ছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে সানজিদা-সাবিনাদের বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। 

আগামীকাল সোমবার সাফের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কাঠমুন্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে। সাফে টানা চার জয় পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভারত,পাকিস্তান, ভুটানকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। 

মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুরু করে, পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে হারায় গোলাম রব্বানীর শীর্ষরা। এরপর ভারতকেও ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে বাঘিনীরা, এরপর ভুটানকে ৮-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ। চার ম্যাচে মোট ২০ দল দিয়েছে বাংলাদেশ। হজম করেনি একটি গোলও। 

বাংলাদেশ নারী দলের মিডফিল্ডার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ এক বক্তব্যে ফাইনালে দেশবাসীর সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন। ২২ বছর বয়সী সানজিদা বলেন, " দ্বিতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রথমবার ফাইনাল খেলেছি ২০১৬ সালে। সেবার ভারতের বিপক্ষে আমরা হেরে যাই। পাঁচবার সাফের মঞ্চে এসে একবার রানার্সআপ, তিনবার সেমিফাইনাল ও একবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছি আমরা।

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এবার মাঠে দারুণ ছন্দে রয়েছি। ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল। স্বাগতিক হিসেবে ফাইনাল খেলা কিংবা স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলা সবসময় রোমাঞ্চকর। এছাড়া, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি কিছুটা ভিন্ন। বহুদিন পর সাফ পাবে নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন দেশ। আর তাই এবার রোমাঞ্চকর একটি ফাইনাল ম্যাচ হতে যাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের হাত ধরে ২০০৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিল বাংলাদেশ। এখনও আমরা সেই গল্প শুনি। বাংলাদেশ ফুটবলের বড় সাফল্যের মহাকাব্যে সেটি উজ্জ্বলতম অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার আমাদের জেতার সময় এসেছে। আমাদের দলের প্রতিটি সদস্য এটি জিততে মুখিয়ে আছে।

যারা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই সকল স্বপ্নসারথিদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই। আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরও নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছুটা হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই।

পাহাড়ের কাছাকাছি স্থানে বাড়ি আমার। পাহাড়ি ভাইবোনদের লড়াকু মানসিকতা, গ্রাম বাংলার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের হার না মানা জীবনের প্রতি পরত খুব কাছাকাছি থেকে দেখা আমার। ফাইনালে আমরা একজন ফুটবলারের চরিত্রে মাঠে লড়ব এমন নয়, এগার জনের যোদ্ধাদল মাঠে থাকবে, যে দলের অনেকে এই পর্যন্ত এসেছে বাবাকে হারিয়ে, মায়ের শেষ সম্বল নিয়ে, বোনের অলংকার বিক্রি করে, অনেকে পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন হয়ে।

আমরা জীবনযুদ্ধেই লড়ে অভ্যস্ত। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যাব। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। তবে বিশ্বাস রাখুন, আমরা আমাদের চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখব না ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।'