ক্রিকেট > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

বাবরের রাজকীয় সেঞ্চুরি, রিজওয়ানের ঝড়ো ইনিংসে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

বাবর-রিজওয়ানের ইতিহাস গড়া জুটিতে সমতায় ফিরল পাকিস্তান।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, রাত ১২:৫২ সময়

[ 20220923_004739.jpg ]

এশিয়া কাপের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে ঘরের মাঠেও বের হতে পারছিলেন না বাবর আজম। নিজেদের চেনা আঙ্গিনায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ শুরু করেও নিজে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। ফলে, পাকিস্তানও নিজেদের ঘরে জয় দিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজের শুরুটা করতে পারেনি। 

‘মুঘল-ই আজম’ খ্যাত বাবর আজম ফিরেছেন যেন নিজের সেই চেনা ফর্মে। গোটা বিশ্বকে ফের দেখালেন, তিনি কতটা ভয়ংকর। পাক অধিনায়কের প্রত্যাবর্তনের রাতে ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন সতীর্থ মোহাম্মদ রিজওয়ানও। সময়ের অন্যতম সেরা দুই ওপেনারের ভয়ংকর  জুটিতে রীতিমতো খড়কুটোর মতোই উড়ে গেল ইংলিশরা। 

আজ (বৃহস্পতিবার) করাচিতে ৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ১০ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে পাকিস্তান। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিশ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। 

জবাবে বাবর আজমের রাজকীয় সেঞ্চুরি ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৮৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে কোন উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। টি- টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো উইকেট না হারিয়ে সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ে রেকর্ড এটি। 

এর আগে ২০১৬ সালে হ্যামিল্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নিউ জিল্যান্ডের ১০ উইকেটে জয় ছিল আগের সর্বোচ্চ। করাচিতে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করার রেকর্ডও এটিই।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার দেড়শর বেশি রান তাড়ায় জিতল পাকিস্তান। ২০১০ সালে দুবাইয়ে ১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয় ছিল তাদের আগের রেকর্ড। সেবার ও জিতিয়েছিলেন বাবর-রিজওয়ান জুটি। 

এই নিয়ে টি -টোয়েন্টি ক্রিকেটে সপ্তমবার একশোর বেশি রানের জুটি গড়লেন বাবর-রিজওয়ান। ইতিহাসে আর কোন জুটি টি-টোয়েন্টিতে এতবার একশো রান করতে পারেনি। 

করাচির উইকেটে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মইন আলি। শুরুটা ভালোই করেন দুই ইংলিশ ওপেনার ফিলিপ সল্ট ও অ্যালেক্স হেলস। পাওয়ার প্লে-তে রান উঠছিল। 

কিন্তু পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে হেলসকে আউট করে ইংল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন শাহনওয়াজ দাহানি। রান পাননি ডেভিড মালান। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

তৃতীয় উইকেটের জন্য সল্টের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বেন ডাকেট। ৩০ রান করে হ্যারিস রউফের বলে আউট হন সল্ট। পরের ওভারেই ডাকেটের উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক মইন। ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন হ্যারি ব্রুক। তিনি ৩১ রান করেন।

শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলারদের সঙ্গে ছেলেখেলা করেন মইন। ইনিংসের শেষ দুই বলে দু’টি ছক্কা মেরে দলের রানকে ২০০-র কাছে নিয়ে যান তিনি। মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন মইন।

দুশোর কাছাকাছি বিশাল লক্ষ্যের জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লে তে ৫৯ রান তুলে বাবর-রিজওয়ান জুটি।  তার মাঝেই রিজওয়ানকে আউট করার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তাঁর ক্যাচ ফস্কান ইংল্যান্ডের সল্ট। তার সুবিধা নেন রিজওয়ান। 

আরও হাত খুলে খেলা শুরু করেন তিনি। অর্ধশতরান করেন তিনি। পিছিয়ে থাকেননি বাবরও। এশিয়া কাপে তাঁর ব্যাটে রান ছিল না। কিন্তু এই ম্যাচে নিজের পুরনো রূপে ফিরলেন পাক অধিনায়ক। তিনিও অর্ধশতরান করেন। দু’জনের মধ্যে শতরানের জুটি হয়।

খেলা যত এগোচ্ছিল তত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন বাবর-রিজওয়ান জুটি। তাঁদের সমস্যায় ফেলতে পারেননি ইংলিশ কোনও বোলার। শিশির ভেজা মাঠে ব্যাকফুটে ইংলিশ বোলারদের ফায়দা নেন দুই পাক ব্যাটার।

একটার পর একটা বল বাউন্ডারিতে গিয়ে পড়ছিল আর আনন্দে উদ্বেল হচ্ছিল করাচির গ্যালারি। মাত্র ৬১ বলে শতরান করেন বাবর। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের এটি দ্বিতীয় পাক অধিনায়কের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। 

ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দুবার ২০০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি হলো রেকর্ড ১০টি। তিনি ছাড়িয়ে গেলেন সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হককে (৯ সেঞ্চুরি)।

সবমিলিয়ে পাকিস্তানের জয়ে ৬৬ বলে ১১ চার ও ৫ ছক্কায় ১১০ রানের ইনিংস খেলেছেন বাবর আজম। তাঁর রানে ফেরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে পাকিস্তানকে। অন্য দিকে রিজওয়ান অপরাজিত থাকেন ৮৮ রানে।