ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ

‘তিন বছর ধরে অন্যায় করা ইউরোপীয়ানদের মুখে নীতি কথা মানায় না’

ইউরোপকে ধুয়ে দিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট।

ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ নভেম্বর ২০২২, রাত ৮:৫১ সময়

[ 20221119_204442.jpg ]

রাত পোহালেই পর্দা উঠবে কাতার বিশ্বকাপ। আগামীকাল (রোববার) রাতে কাতার-ইকুয়েডর ম্যাচের মধ্যে দিয়ে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে এর কোন দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। 

ইতিমধ্যে, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট দেশটিতে জড়ো হচ্ছে ভক্তরা। নেচে গেয়ে উদযাপনে এই মহাজঙ্গে প্রাণের সঞ্চার করছেন তারা।

আরব দেশে দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চ যেমন আছে, তেমনি বিতর্কও খুব কম নেই। যে বিতর্ক শুরু হয়েছিলো কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার পর থেকেই।

একে তো ইতিহাসে এবারই প্রথমবার সময় পরিবর্তন করে নভেম্বর-ডিসেম্বরে করা হয়েছে, তার ওপর অনেকে অভিযোগ তুলছেন, কাতার ঘুষ দিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে যায়। 

তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে দেশটিতে মানবাধিকার আইনগুলো নিয়েও বিতর্ক বহু পুরনো। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারে বিশ্বকাপ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সাড়ে ছয় হাজারের মতো শ্রমিকই মারা গেছেন। এছাড়া নারীদের অধিকার, সমকামীদের প্রতি দেশটির মনোভাব নিয়েও সমালোচনা আছে বিস্তর।

মূলত, ইউরোপিয়ান দেশগুলিই এবার কাতার বিশ্বকাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে বেশি। ইউরোপের সংবাদমাধ্যম গুলিতেও প্রতিনিয়ত কাতার বিরোধী খবর ফলাও করা আয়োজন করা হচ্ছে। এতে ইউরোপের অনেক সাবেক ফুটবলার এবার বিশ্বকাপ বয়কটের ডাকও দিয়েছেন।

চারদিক থেকে আসা নানা আলোচনা নিয়ে এবার কথা বলেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি কাতারে বিরুদ্ধাচারণ করা ইউরোপিয়ানদের রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগের দিন আজ (শনিবার) সংবাদ সম্মেলনে ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেছে, শোষণ করা ইউরোপের মুখে নীতির কথা মানায় না। 

“আমি একজন ইউরোপিয়ান। গত তিন হাজার বছর ধরে আমরা যা করেছি, কোনো নৈতিকতা সবক দেওয়ার আগে আমাদের উচিত পরের তিন হাজার বছর ধরে ক্ষমা চাওয়া। ইউরোপের মুখে নীতি কথা কোনভাবেই মানায় না।”

এবার বিশ্বকাপের শেষ মুহুর্তে স্টোডিয়ামে বিয়ার পান নিষিদ্ধ  করেছে কাতার সরকার।যা নিয়েও চলছে সমালোচনা। ফিফা প্রেসিডেন্ট কথা বলেছেন সেটা নিয়েও। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, কাতার মুসলিম দেশ বলেই বিয়ার পান নিষিদ্ধ করায় ক্ষেপেছেন অনেকে।

“আপনি যদি তিন ঘন্টা বিয়ার পান করতে না পারেন, আমি মনে করি আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন।  ফ্রান্সের মতো অনেক দেশ আছে যারা স্টেডিয়ামে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করে, কিন্তু কাতার যেহেতু একটি মুসলিম দেশ, তাই লোকেরা বিয়ার পান করা কে একটি সমস্যা বলে মনে করে।”