ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের যত গান, ফুটবলের জয়গান

যেসব গান বিশ্বকাপের রোমন্থন স্মৃতি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়।

ডেস্ক রিপোর্ট

২০ নভেম্বর ২০২২, দুপুর ২:৫১ সময়

[ 20221120_144550.jpg ]

প্রতি চার বছর পরপর স্বপ্নের ফুটবল বিশ্বকাপ আসে এবং চলেও যায়। প্রতিটি বিশ্বকাপেই কিছু গান তৈরী হয়; যা বিশ্বকাপের রোমন্থন স্মৃতি আপনাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়। ফুটবলের উন্মাদনা আর উত্তেজনার মাঝেই এই গানগুলো আপনাকে আলাদাভাবে ফুটবল কে অনুভব করাবে; আপনার রক্তে যেন এই ফুটবলের পুরো নেশা ঢুকিয়ে দিবে! 

এখনো হয়তো অনেকের মনে অজান্তে "Wavin' Flag" কিংবা শাকিরার 'waka waka' গানের সুর আনমনে হয়ে উঠেন। বিশ্বকাপ মনে পড়লেই যেন রিকি মার্টিনের গাওয়া 'দ্যা কাপ অব লাইফ’গানের "গোল, গোল, গোল, আলে আলে আলে..." এই লাইনটি এখনও মানুষকে নাড়া দেয়! সাধারণত,  বিশ্বকাপ আসলে ফিফা অফিশিয়ালি থিম সং এনাউন্সমেন্ট করে। সেই থিম সং নিয়েই দর্শকদের বাড়তি উম্মাদনা থাকে। 

ফিফার ওয়েবসাইট ও উইকির বরাতে যতটুকুই জানা যায় তা হলো,  '৬২এর চিলির বিশ্বকাপ থেকে 'অফিসিয়াল থিম সং' এর ঐতিহ্য চলে আসছে। বস্তুত, বিশ্বকাপে আয়োজক দেশগুলো তাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে ফিফার অফিসিয়াল থিম সংয়ের মাধ্যমে। 

তাই, থিম সং নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয় ইংরেজি, বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশেরই ভাষা এবং স্প্যানিশ ভাষাকে। বিশ্বকাপে ফিফার অফিশিয়াল থিম সং ও ফুটবল বিশ্বকাপ তুমুল জনপ্রিয় কিছু গান নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা:

এল রক ডেল মুন্ডিয়াল' (World cup Rock)

১৯৬২'এর বিশ্বকাপকে বলা হয় আধুনিক বিশ্বকাপের সূচনা; এই বিশ্বকাপেই প্রথমবার অফিশিয়াল থিম সং লঞ্চ করে। 'এল রক ডেল মুন্ডিয়াল' নামেই ফুটবল ও বিশ্বকাপের জয়গান করে গাওয়া এই গানটি স্প্যানিশ ভাষায় পরিবেশন করে বিখ্যাত ব্যান্ড দল দ্য র‍্যাম্বলার্স। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম অফিশিয়াল থিং সং হওয়ায় এই গান নিশ্চিত ঠাই করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়...    

ওয়ার্ল্ডকাপ উইলি (Where in this world are going)

১৯৬৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ অনেক কারণেই আলোচিত। প্রথমবার বিশ্বকাপের শিরোপা উচিয়ে ধরে ব্রিটিশরা। এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মাসকট প্রচলন হয়; যার নাম ছিল উইলি। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং 'ওয়ার্ল্ডকাপ উইলি' গানটিও এই মাসকটকেই কেন্দ্র করে তৈরী করা হয়...। বেশ নরম রিদমে গানটি পরিবেশন করেন যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্লী লনি ডোনগানের। 

মেক্সিকো বিশ্বকাপ '৭০ (Fútbol México '70) 

১৯৭০ এর বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক বিশ্বকাপ। ফুটবল সম্রাট পেলের শেষ বিশ্বকাপ! পেলে ম্যাজিকে ইতালিকে হারিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল জুলে রিমে ট্রফি চিরতরে নিজেদের করে নেয়। স্পেনের শিল্পী হারমানস জাভালারের স্প্যানিশ ভাষায় গাওয়া ‘ফুটবল মেক্সিকো ৭০’গানটি মেক্সিকো সেই বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ছিল।... এবারই প্রথম ফুটবলারদের রঙ্গিন জার্সিতে দেখা যায়।

• ফুটবল

'ফুটবল'বিশ্বকাপের দশম আসর অফিশিয়াল থিম সং। ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংয়ের মধ্যে ইতিহাসে সর্বাধিক স্প্যানিশ, রুশ, ইংরেজী, পোলিশ এবং জার্মান সহ মোট ৫টি ভাষা রচিত হয় গানটি। পোলান্ডের শিল্পী মেরিলা রোডোইজের এই হৃদয়স্পর্শী গানটি পরিবেশন করে।

• এল মুন্ডিয়াল ( Anthem) 

ইতালির প্রিয় সুরকার এননিও মরিসনের সুরে ‘বুয়েনস এরেন্স মিউনিসিপাল সিম্ফনি ব্যান্ডের ‘এল মুন্ডিয়াল’ নামেই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সংটি পরিবেশন করেন। এবারই প্রথম বিশ্বজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে আলবিসেলিস্তারা

• মুন্ডিয়াল '৮২ (Mundial '82) প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করেই তাক লাগিয়ে দেয় স্পেন। প্রখ্যাত স্প্যানিশ শিপ্লী প্ল্যাছিডো ডমিনগোর এই গানটি বিশ্বকাপে স্পেনকে স্বাগতিক দেশ হিসেবে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। তুমুল জনপ্রিয়তা পায় গানটি!

এ স্পেশাল কাইন্ড অব হিরো (A Special Kind of Hero) 

প্রায় দেড় যুগেরও কম সময় আবারও মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ। অনেকটা ম্যারকডোনার বিশ্বকাপ নামেই পরিচির। হ্যাঁ, ফুটবল ঈশ্বর একাই বিশ্বকাপ ইতিহাসের ওয়ান অব দ্য বেস্ট ইন্ডিভিচ্যুয়াল পারফরম্যান্সেই আকাশী নীলদের দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের শিরোপা এনে দেন। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ছিল ' A special kind of Hero'। গানটি পরিবেশন করেন ব্রিটেনের গ্ল্যামারগার্ল স্টেফনি লরেন্স।

ইউএন'স্টেট ইতালিয়ানা (To be Number One)

'৯০ এর বিশ্বকাপে উৎসাহ প্রদান করা গানটি পরিবেশন করেন ইতালির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অ্যাডোআর্ডোন বেন্নাতো ও ন্যান্নিনি জিয়ান্না। ইংরেজি এবং  ইতালিয়ান ভাষায় গাওয়া হয়। একটা সময় ইতালিতেই সর্বাধিক বিক্রিত গানের সিডির মধ্যে ' ইউএন'স্টেট ইটালিয়ানা' গানটির সিডি ছিল অন্যতম। 

গ্লোরিল্যান্ড (Gloriland)

অন্যসব বিশ্বকাপে থিম সংয়ের চেয়ে বেশ বৈচিত্র বলা যায় গানটি। বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ করা সব দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে গানটি পরিবেশন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গীত শিল্প ড্যারিল হলে এবং সাউন্ডস অব ব্ল্যাকনেস। 

• লে কোপা ডে ভিডা (The cup of life) 

বলা হয়ে থাকে, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় গানগুলোর একটি। '৯৮ বিশ্বকাপে রিকি মার্টিনের এই গানের তালে মাতোয়ারা হয়নি এমন ফুটবল ফ্যান নাই বললেই চলে। দ্য কাপ অব লাইফ' বিশ্বকাপের থিম সং গুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় গান। এখনও সেই রিকি মার্টিনের গাওয়া "গোল,গোল,গোল,আলে আলে আলে..." এই লাইনটি মানুষকে নাড়া দেয়।

বুম (Boom)

একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী  দক্ষিন কোরিয়া এবং জাপান। 'বুম 'নামের ফিফার অফিশিয়াল এই থিম গানটি ছিল আমেরিকান সংগীত শিল্পী অ্যানাসটেসিয়ার গাওয়া। গানটি মিউজিক ভিডিও তৈরি করেন মার্কোস সিয়েগা এবং মিউজিক ভিডিওটি ধারণ করা হয় লন্ডন।

• সেলিব্রেট দ্য ডে (The Time of Our lives)

জার্মান বিশ্বকাপে হার্বার্ট গ্রুনমেয়ারের গাওয়া গানটিতে ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি আর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। গানটির মিউজিক ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল একটি ফুটবল মাঠে, যার পরিচালনায় ছিলেন নাইজেল ডিক।

•ওয়াকা ওয়াকা (This time for africa)

বিশ্বকাপ অথচ ওয়াকা ওয়াকা গানটি শুনে নাই এমন মানুষ এখন নাই বললেই চলে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক ব্যবসাসফল গানটি পরিবেশন করেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরি। এই গানটি গেয়ে এশিয়াতে রীতিমত তারকা বনে যায় শাকিরা। গানের ভিডিওতে শুট করে অনেক তারকা ফুটবলার। ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিশ্বকাপ অফিশিয়াল থিম সং গুলোর মধ্যে সর্বাধিক ভিউ প্রাপ্ত গানও শাকিরার ওয়াকা ওয়াকা গানটি।

• ওয়েভিং ফ্ল্যাগ (Wavin' flag)

ওয়েভিং ফ্ল্যাগ— বিশ্বকাপের কোন অফিশিয়াল থিম সং নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে কোকাকোলার পৃষ্ঠপোষকতা য় গানটি গান কেনান। অথচ এটাই হয়ে যায় বিশ্বকাপে প্রতিশব্দ। কেবল গানই নয়; এই গানের প্রতিটি লিরিক্স ফুটবল প্রেয়সীদের নিশ্চিত বিউটিফুল গেইমের প্রেমে পাগল করে। তাই, এক যুগ পরও ওয়েভিং ফ্ল্যাগের জনপ্রিয়তা কমেনি একটুও। 

ওলে ওলে (We are one) 

তিনজন জনপ্রিয় তারকা গেয়েছেন ব্রাজিল বিশ্বকাপের এ থিম সং। মার্কিন অভিনেত্রী-সংগীতশিল্পী জেনিফার লোপেজ, ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ক্লদিয়া লেইতে এবং কিউবান-আমেরিকান র‌্যাপ সংগীতশিল্পী পিটবুল। এ গানের মাধ্যমে ব্রাজিলের ফুটবল প্যাশন তুলে ধরা হয়েছিল।

• গিভ ইট আপ

'গিভ ইট আপ' নামে রাশিয়া বিশ্বকাপে অফিশিয়ালি থিম সংটি সনি মিউজিকের প্রযোজনায় ইংরেজি, রুশ স্প্যানিশ মিশ্রিত ভাষায় কন্ঠ দিয়েছেন মার্কিন গায়ক নিকি জ্যাম, অভিনেতা উইল স্মিথ এবং কসোভোর নাগরিক ইরা ইজত্রেফাই।