ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ

কিংবদন্তি মরগান ফ্রিম্যানের সঙ্গে বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া ‘অলৌকিক যুবক’টি কে ছিলেন?

বিশ্বকাপের জমকালো আয়োজনে দুই পা ছাড়া এক চতুর্থাংশ শরীর নিয়ে জন্ম নেওয়া যুবকের পবিত্র কুরআন থেকে সাম্যের বানী গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট

২১ নভেম্বর ২০২২, রাত ১:৫৬ সময়

[ 20221121_011830.jpg ]

মরুর বুকে বিশ্বকাপ! এটাও কি সম্ভব? কাতার  বিশ্বকাপের দায়িত্ব পাওয়ার পর এতদিন বড় প্রশ্ন  ছিল এটাই। সবরকম প্রশ্নের জবাব যেন দিলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সকল প্রতিকূলতা পাশ কাটিয়েই ইতিহাসের সেরা আয়োজনে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করল তারা।

আজ (রোববার) রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে, আল খোর শহরের আল বাইত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হয় জামকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৬০ হাজার আসনবিশিষ্ট আল বাইত স্টেডিয়ামে ছড়ানো হয় আলোর রোশনাই। বিটিএস, আল কুবাইসি, মরগান ফ্রিম্যানদের পারফরম্যান্স শেষে দেখা মিলে চোখ ধাঁধানো আতশবাজিরও।

মরুর বুকে প্রথম বিশ্বকাপের চোখধাঁধানো সব আয়োজনের মধ্যে বেশিরভাগ আলোই কেড়ে নিয়েছেন কাতারের ইউটিউবার গানিম আল মুফতাহ। হলিউড কিংবদন্তি অভিনেতা মরগান ফ্রিম্যানের সঙ্গে দুই পা ছাড়া এক চতুর্থাংশ শরীর নিয়ে জন্ম নেওয়া  যুবকের পবিত্র কুরআন থেকে সাম্যের বানীটুকু গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

গানিম আল মুহতাহ, কাতারের সর্বকনিষ্ঠ  উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। শারীরিকভাবে অক্ষমতা সত্ত্বেও নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে ২০ বছর বয়সী গানিম মনের জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করার নীতিতে বিশ্বাসী। তাই তার নাম হয়েছে ‘অলৌকিক যুবক’।

গানিম হুইল চেয়ারে করে চলাচল করলেও প্রচন্ড মেধাবী। কাতারে তার নিজের নামে একটি দাতব্য সংস্থা, স্পোর্টস ক্লাব এবং আইসক্রিম পার্লারও আছে। তার দাতব্য সংস্থা থেকে প্রতিবন্ধী শিশুদের নানাভাবে সহায়তা করা হয়।  দেশের মানুষ গানিমকে আশা, দৃঢ়সংকল্প এবং দানশীলতার প্রতিমূর্তি হিসেবে জানে।

গানিম সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে তার ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলতে চায়। ভবিষ্যৎতে তিনি প্যারালিম্পিয়ান হওয়ার আশা করছেন। একজন প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও, তার প্রিয় খেলা হচ্ছে সাঁতার, স্কুবা ডাইভিং, ফুটবল, হাইকিং এবং স্কেটবোর্ডিংকে ।

স্কুলে, গানিম তার হাতে জুতা পরে ফুটবল খেলত এবং তার 'সাধারণ আকারের' বন্ধুদের সাথে বলের পিছনে তাড়া করত।  তবে আশ্চর্যজনকভাবে, গানিম সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জেবেল শামস আরোহণ করেছেন। অসম্ভব সাহসী কাতারি এই যুবক মাউন্ট এভারেস্ট আরোহনের তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে গানিম মুফতাহের।  ইনস্টাগ্রামে এক মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার আছে তাঁর।  কাতারের ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অধ্যয়ন করছেন।