ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ

জিকো-সক্রেটিস না হয়ে পেলে-রোনালদো হওয়ার পথ শুরু নেইমারের

অমরত্বের পথে নেইমার।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ নভেম্বর ২০২২, দুপুর ১:৩৩ সময়

[ Screenshot_20221124-133226_Gallery.jpg ]

বিশ্বকাপ ও ব্রাজিল চিরকালীন সম্পর্কযুক্ত দুটি নাম। প্রতি চার বছর পর পর একটি বিশ্বকাপ আসে, আর অবধারিতভাবেই তাঁর ফেবারিটের প্রশ্নে ব্রাজিলের নামটা নামটা চলে আসে। দল যেমনই হোক, ব্রাজিল বিশ্বকাপের চিরকালীন ফেবারিট। 

ব্রাজিলের ফুটবলে বিশ্বকাপ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, লাতিন আমেরিকার দেশটির কিংবদন্তি হওয়াত চূড়ান্ত প্যারামিটারও বিশ্বকাপই। যারা বিশ্ব মঞ্চে সেলেসাওদের মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছে, সাম্বার তালে তালে ব্রাজিল তাদেরই নিজেদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে মনে করেছে। তাই, ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া প্রতিটি সন্তানও একবার হলেও বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখে। 

১৯৮২ সালে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিভাবান একঝাঁক ফুটবলার নান্দনিক ফুটবল খেলেও বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হয়। যাদের শূন্য হাতে বিদায়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানও লিখে ফেলেছিলো,‘ সুন্দর ফুটবলের মৃত্যু হয়েছে’। 

সেই দলের জিকো, সক্রেটিস ও ফ্যালকাওরা সমীহ করার মতো বর্নাট্য ক্যারিয়ার পেয়েছেন বটে,  তবে ইতিহাস তাদের কেবল প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে মনে রেখেছে। জয়ী দলের কোন ফুটবলার হিসেবে নয়।

ব্রাজিলের ইতিহাসে পেলে, গ্যারিঞ্চা, রোমারিও, রোনালদিনহো, রোনালদোরা যতটা উজ্জ্বল হয়ে আছে; জিকো, সক্রেটিস, রবিনহো, ফ্যালকাওরা তার চেয়ে খানিকটা পিছিয়েই আছেন।

সময়ের অন্যতম সেরা তারকা নেইমারের সামনেও এবার সেই সমীকরণ মেলানোর শেষ সুযোগটি এলো। গত এক দশক ধরে ব্রাজিলের দায়িত্ব একা বহন করে তিনি কি এখন জিকো-সক্রেটিসদের কাতারে স্রেফ প্রতিভাবান ফুটবলার হয়েই থাকবেন নাকি পেলে - রোনালদোদের মতো অমরত্বের সুধা পান করবেন।

২০১০ সালে ব্রাজিল দলে অভিষেক। এরপর নিজেকে ধীরেধীরে সেলেসাওদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিণত করেছেন নেইমার। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দলটির একমাত্র কান্ডারী হয়ে আছেন তিনিই।

গত এক দশক ধরে ব্রাজিল মানেই নেইমার দেখা গেছে। সবশেষ দুটো বিশ্বকাপে ও এমনটাই হয়েছে। ২০১৪ বিশ্ব কাপে ঘরের মাঠে নেইমারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছিলো পেলের দেশের বিশ্বকাপ খেলার কৌশল। ২০১৮ বিশ্বকাপেও সেটাই। 

২০১৪ সালে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে খেলেন নেইমার। ঘরে মাঠে দুর্দান্ত খেলেছিলেন বটে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল কলম্বিয়ার বিপক্ষে জিতলেও, চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। জার্মানির বিপক্ষে মাঠেই নামা হয়নি তার। বেলো হরিজন্তের সেই ম্যাচে নিজ দলের ৭-১ গোলে হারের লজ্জা দেখতে হয়েছে।

২০১৮ সালেও অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন রাশিয়ায়। তারুণ্যে আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এবার বিশ্বকাপ জেতার মতো দল পেয়েছিলেন। কিন্ত, এবারও ব্যর্থ হলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে বিশাল স্বপ্নের সমাধি হয়। 

বয়স মাত্র ৩০ হলেও এটাই নিজের শেষ বিশ্বকাপ বলে জানিয়ে দিয়েছেন নেইমার। ব্রাজিলের জার্সিতে গোল করে ফেলেছেন ৭৫টি৷ আর দুটো গোল করতে পারলে ই পেলেকে ছাড়িয়ে দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোল দাতা বনে যাবেন। কিন্তু, তারপরও ব্রাজিলের জার্সিতে অমর হতে হলে বিশ্বকাপটা জিততেই হবে তাঁকে। আর কদিন পর হয়তো সেই প্রশ্নের জবাবও মিলে যাবে।